ইনক্রিমেন্ট কেটে নিলে টাইম স্কেল অর্থহীন!

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৭ নভেম্বর ২০

মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন।।

বেসরকারি শিক্ষকদের টাইম স্কেল দিয়ে ইনক্রিমেন্ট কেটে রাখা হয়। ইনক্রিমেন্ট একজন কর্মীর কর্মের স্বীকৃতি। তার সারা বছরের অর্জন। আর টাইম স্কেল তার অভিজ্ঞতার পাওনা। দেশের সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় এগুলো চালু আছে। অতীতে বেসরকারি শিক্ষকদের লজ্জাজনক ইনক্রিমেন্ট ছিলো। বর্তমান সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপেে বেসরকারি শিক্ষকরা সে লজ্জার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছে। সরকারি কর্তামকর্তা কর্মচারীদের মতো তাদেরকেও দিয়েছেন বাৎসরিক ৫% ইনক্রিমেন্ট।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, ইদানিং লক্ষ্য করা গেছে বেসরকারি শিক্ষকরা টাইম স্কেল করালে তাদের পূর্বে প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট কেটে নেয়া হয়। সম্প্রতি আমাদের প্রতিষ্ঠানে তিন জন শিক্ষক বি এড স্কেল করালে তাদের পূর্বে প্রাপ্ত দুটি ইনক্রিমেন্ট কেটে রাখা হয়। শুধু তাই ই নয়, তারা নাকি সামনের দু’বছরও ইনক্রিমেন্ট পাবেন না। অর্থাৎ কেউ টাইম স্কেল পাইলে সে নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকের মতো হয়ে যায়। টাইম স্কেল পেতে যেমন চাকরির বয়স দু’বছর হতে হয়, তাদের বেলায়ও সে নিয়ম প্রযোজ্য। অদ্ভুত যতো নিয়ম বেসরকারি শিক্ষকদের বেলায়।

বর্তমান এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষক ১০ বছরে প্রথম স্কেল এবং ১৬ বছরে দ্বিতীয় স্কেল পাবেন। যে কোন স্কেলের একজন শিক্ষক ১০ বছরে ইনক্রিমেন্ট পেয়ে যে স্তরে পৌছবেন, টাইম স্কেল করালে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী তার বেতন কমে যাওয়ার কথা। অর্থাৎ তখন টাইম স্কেল অর্থহীন হয়ে যাবে। বেসরকারি শিক্ষকদের ঠকানোর জন্য এসব কর্ম যারা করেন তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য শিক্ষক নেতাদের অনুরোধ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপে প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্টের সুবিধা থেকে বেসরকারি শিক্ষকদেরকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত দুঃখ জনক।

করেনাকালীন সময়ে বেসরকারি শিক্ষকরা নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে যেখানে টিকে থাকা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে তাদেরকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে যারা বঞ্চিত করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত তাদেরকে চিহ্নিত করে জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচিত করতে হবে।

লেখকঃ
প্রভাষক
জিরাইল আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসা
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.