আসছে আরেকটি নিম্নচাপ তাপমাত্রা ১২.৪ ডিগ্রিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

তাপমাত্রা নেমেছে ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঠাণ্ডা বায়ুর একটি উচ্চ চাপ বলয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই ঠাণ্ডা বলয়ের কিছুটা ধাক্কা বাংলাদেশে লেগেছে বলে এখানে গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে একটু বেশি ঠাণ্ডা পড়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে শিগগিরই আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে; তা শেষ পর্যন্ত নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড়ও হয়ে যেতে পারে।

লঘুচাপ সৃষ্টি হলে বর্তমান ঠাণ্ডা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। উচ্চ চাপ বলয়ের কারণে বাংলাদেশের রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত একটু বেশি নিচে নেমে গেছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি নিচে নেমে গেছে। রাজধানী ঢাকাতেও অনেক দিন পর তাপমাত্রা কিছুটা নিচে নেমেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের কাছে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে।

লঘুচাপের শুরুতে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আরো কমে যাবে। আর বৃষ্টি না হয়ে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সার্বিক তাপমাত্রা এখনকার চেয়ে বেড়ে যেতে পারে। গতকাল শনিবার মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলে ১৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তেঁতুলিয়ায় ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ময়মনসিংহে ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, নেত্রকোনায় ১৪, চুয়াডঙ্গায় ১৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় আবারো ফুটপাথের গরম কাপড়ের দোকানে বেড়ে গেছে ভিড়, একই সাথে দামও বেড়েছে।

তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই লঘুচাপটি শেষ পর্যন্ত নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এ বছর নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে। এর মধ্যে দু’টি লঘুচাপ থেকে দু’টি নিম্নচাপ হয়ে গেছে। অন্যগুলো সাগরেই দুর্বল হয়ে গেছে। নভেম্বর মাসে কোনো ঘূর্ণিঝড় হয়নি। দু’টি নিম্নচাপই শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে উপকূলে উঠে বৃষ্টি ঝরিয়ে গুরুত্বহীন হয়ে গেছে।

কানাডায় গবেষণারত আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, সামনের লঘুচাপটি থেকে নিম্নচাপ হয়ে শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় হলে এর উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। মডেল পূর্বাভাসগুলো সে রকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ঝড় হলে আগামী ৫ থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থলভাগে উঠে আসতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় অথবা নিম্নচাপের কারণে ডিসেম্বরের ৪ থেকে বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে এবং ৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর পুরো দেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির ব্যাপারে আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পূর্বাভাস কেন্দ্রগুলো ডিসেম্বরের ৫ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে বলছে। এর আগে ১ থেকে ২ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ থেকে নিম্নচাপ হতে পারে। অন্য দিকে ডিসেম্বরের ৩ তারিখেই নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় হয়ে যেতে পারে।

মডেল পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় হলে ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির অর্ধেক বাংলাদেশে ও বাকি অর্ধেক ভারতীয় অংশে আঘাত করতে পারে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর।

শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি পুরোপুরি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে পর্যন্ত যাবে। মোস্তফা কামাল বলেন, সম্ভাব্য এ ঘূর্ণিঝড়টির সৃষ্টি নিয়ে প্রায় সব আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল একই সম্ভাবনার কথা বলছে। একই সাথে আমেরিকা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কানাডার আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল নির্দেশ করছে যে, ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করার পরে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাতের মূল অংশ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ৬ ডিসেম্বরে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে এবং ৫ থেকে ৭ ডিসেম্বর পুরো দেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। মোস্তফা কামাল বলেন, এখানে মডেল পূর্বাভাসে যা বলা হয়েছে সেটিই বললাম।

ঘূর্ণিঝড় হলে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ু পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। বায়ুপ্রবাহের এই মান যদি বর্ণিত মডেল পূর্বাভাসের মতোই চলে তা হলে ঘূর্ণিঝড়টি বর্ণিত পথেই অগ্রসর হবে। কিন্তু বায়ুপ্রবাহের মান যদি একটু বৃদ্ধি পায়, তবে এ ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে প্রবেশ করে নোয়াখালী, ফেনী ও উত্তর চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে ভারতে যেতে পারে।

দেশে বর্তমানে আমান ধান মাড়াইয়ের মৌসুম চলছে। সে কারণে সম্ভাব্য এ ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে আমন ধান চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমন ধান কেটে মাঠেই রেখে দেয়া হয় শুকানোর জন্য।