আলোচনা সভায় নারী বান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার তাগিদ

অনলাইন ডেস্ক।।

নারীকে পিছিয়ে রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়া সম্ভব নয়। যৌন হয়রানি অপরাধের স্বীকৃতি পেয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপরও আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নারীবান্ধব করে গড়ে তুলতে পারেনি। এটি করতে হলে আমাদের সবার আগে মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেকসম্পন্ন মানুষ হতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেট ডেইলি স্টার ভবনে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা :প্রয়োগ প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিমত তুলে ধরেন।

ইউএন উইমেন এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সহযোগিতায় আলোচনা সভার আয়োজক ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন জোট’। এতে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী সরকারি কলেজে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকর্মী অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, মানুষের মানসিক পরিবর্তন নিম্নগামী হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মানুষকে মানুষ ভাবা হলেও, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণ্য করা হয় পণ্য। যৌন হয়রানিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে সবাইকে মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেকবান মানুষ হতে হবে।

‘আমরাই পারি’ জোটের প্রধান নির্বাহী জিন্নাত আরা হক বলেন, যৌন হয়রানি নতুন কিছু না। তবে এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। হাইকোর্ট যৌন হয়রানিকে অপরাধের স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমরা এখনও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি করতে পারিনি। ফলে নারীবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অধরাই রয়ে গেছে।’ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সুজন কান্তি মালী বলেন, ‘দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সঙ্গে যৌন হয়রানি দূর করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার।

২০০৯ সালে এক রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও সুপারিশের জন্য একটি অভিযোগ গঠন কমিটি করবে। তবে বক্তাদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত এ কমিটি সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষ জানেন না। কমিটি থাকলেও সদস্যরা সংশ্নিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষিত নন। নীতিমালায় ডিজিটাল হয়রানি না থাকায় এ-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান খুবই কঠিন। স্কুল-কলেজে পর্যাপ্ত মনিটরিং ব্যবস্থাও নেই।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক জেবউননেছা, অধ্যাপক শাহজাহান আলী, সহকারী অধ্যাপক সেলিনা আখতার, সহযোগী অধ্যাপক আমেনা বেগম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যিালয়ের সেকশন অফিসার নুশরাত আমিন প্রমুখ।