আর্থিক সমস্যাকে জয় করে মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় উত্তীর্ন মেধাবী সালমা

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, রবি, ১৮ এপ্রিল ২১

রফিকুল আলম বকুল, মেহেরপুর প্রতিনিধি ।।
মেহেরপুরের গাংনীর এক মেধাবী মুখ সালমা খাতুন । বাড়ি গাংনীর বামুন্দী ইউনিয়নের তেরাইল গ্রামের মাঠপাড়ায় । । অত্যান্ত গরীব ট্যাক্টরচালক লাঁলচাদ আলীর মেধাবী মেয়ে সালমা খাতুন গ্রামের ব্র্যাক স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ভর্তি হন জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ।

সেখান থেকে স্কুলের স্যারদের অনুপ্রেরনায় বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক হাসান আল নুরানীর বিশেষ সহযোগিতায় এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে । সেখান থেকে এইচএসসি পাশ করে এবারের মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের জন্য সালমা নির্বাচিত হয়েছেন ।

অত্যান্ত মেধাবী সালমা স্বপ্ন দেখেন একজন ভাল মানুষ ও ভাল ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার । তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা সালমাকে ভাবিয়ে তুলেছে । পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি তাঁর বাবা ভাড়ায় চালিত ট্যাক্টর এর উপার্জিত অর্থ দিয়ে মেডিকেল এর খরচ বহন করা খুব কষ্টসাধ্য । মেধাবী সালমা এ নিয়ে চিন্তিত। যে পরিবার অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত তাকে নিয়ে এসেছে। মেডিকেল পড়ার জন্য দীর্ঘদিন পরিবার থেকে সে আর্থিক সহযোগিতা পাবে কিনা ।

এই প্রতিনিধির পক্ষ থেকে সালমাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় অত্যান্ত জরাজীর্ন তাদের বাড়ি । আর্থিক সমস্যা প্রবল তবে সালমার মায়ের মনোবল অত্যান্ত ইতিবাচক । তার ইচ্ছা যে করেই হোক মেয়েকে ডাক্তারী পড়াবে । বাড়ির তিন শতক জমি ছাড়া নিজস্ব কোন জমি নাই সালমাদের । সালমার বাবা লাঁলচাদ আলী সারাদিন ট্যাক্টর চালিয়ে যে অর্থ পান তাই দিয়ে পরিবারের ভরনপোষন করেন । তার পক্ষে সালমাকে পড়ানো খুবই কষ্টসাধ্য বলে জানান তিনি ।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে যেহেতু ডাক্তারী চান্স পেয়েছে সেজন্য আমি রাতদিন পরিশ্রম করে চেষ্টা করবো তার খরচ জোগাড় করার যদি ও তা আমার জন্য খুবই কঠিন । মেধা থাকলে এবং সে অনুযায়ী পরিশ্রম করলে একজন ছাত্র আর্থিক সমস্যা থাকলেও সে অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে পারে সালমা তার বড় প্রমাণ । পরিবারের অভাব বা আর্থিক টানাপোড়ন সালমাকে‌ দমাতে পারেনি বরং আরও সে অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা করে মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় উত্রীর্ন হয়ে সালমা প্রমান করেছে শুধু আর্থিক সীমাবদ্ধতা মানুষকে পিছিয়ে রাখতে পারেনা । যদি চেষ্টা থাকে তবে সকল সমস্যা জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় সালমা তার প্রমান ।

সালমা জয় করতে চাই, মানুষের সেবায় যুক্ত হতে চাই, সেজন্য সে মহান পেশা ডাক্তারী পাশ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই ।জেলার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, শিল্পপতিসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি মেধাবী সালমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে তবে সালমার বাবা লাঁলচাদ আলীর কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে । সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ বলে মনে করছেন সমাজের অনেকেই । দেশের করোনা পরিস্থিতিতে লাঁলচাদ আলীর আয় রোজগার এ ভাটা পড়েছে । লাঁলচাদ আলী চিন্তায় আছেন কলেজে ভর্তি শুরু হলে ভর্তির খরচ ও বিভিন্ন রকম জিনিস পত্র কিনতে অনেক টাকা লাগবে সে টাকা জোগাড় কিভাবে করবে এই ভেবে ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.