চাকরি স্থায়ীকরণের এক দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত ১৫৬ কর্মচারী।

মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত এ অনশনে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৯ কর্মচারী। গুরুতর অসুস্থ তিনজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

অনশনকারী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পিয়ন ফরহাদ হোসেন জানান, অনশনকালে বঙ্গমাতা হলের অ্যাটেনডেন্ট আবু রায়হান, শেখ হাসিনা হলের ক্লিনার রিফা সুলতানা, বেগম সুফিয়া কামাল হলের নূর নাহার বেগম, শেখ হাসিনা হলের মালি শরিফুল ইসলাম, শহীদ রফিক-জব্বার হলের নিরাপত্তারক্ষী সেলিম, মেডিকেল সেন্টারের ক্লিনার নিপা বিশ্বাস, বঙ্গমাতা হলের অ্যাটেনডেন্ট অঞ্জলি ও রাধারানী বিশ্বাস, একই হলের ক্লিনার সাখি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন। আন্দোলনরত এক অন্তঃসত্ত্বাকে দেখে গেছেন চিকিৎসক।বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রিজওয়ানুর রহমান বলেন, তিনজনকে এনাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

অনশনকারী তারিকুল ইসলাম বলেন, আট-দশ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরির ভিত্তিতে চাকরি করছেন তাঁরা। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন মাস পর চাকরি স্থায়ী করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন পদে বাইরে থেকে লোক নেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাঁরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। চাকরির নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।এরই মধ্যে প্রশাসন আন্দোলনরতদের অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এতে সাড়া দেননি অনশনকারীরা। তাঁরা চাকরি স্থায়ীকরণের নিশ্চয়তা চান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, সব মিলিয়ে নতুন হলগুলোতে ৭৩টি শূন্য আসন রয়েছে। আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই মালি, বাবুর্চি, পিয়ন, ক্লিনার হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন। কিন্তু নতুন হলে এ ধরনের কোনো পদই নেই। এ ছাড়া ১৫৫ জনকে একসঙ্গে চাকরি স্থায়ীকরণ সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য নূরুল আলমের উদ্ৃব্দত্তি দিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করলে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁরা চাকরির নিশ্চয়তা চান, এটা কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার নবনির্মিত ছয়টি হল পরিদর্শনে এসে অনশনরতদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম। তিনি অনশন প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে নবনির্মিত হলের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।