আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটি হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ঠেকাতে

দেশে-বিদেশে অপপ্রচার ঠেকাতে তথ্য সংগ্রহে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি গঠন করছে সরকার; যেটি সেসব তথ্য যাচাই ও বিশ্লেষণের কাজও করবে।

বিদেশে প্রচারিত মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ক্ষেত্রেও আরও তৎপর হচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এসব বানানো তথ্যের জবাব তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দিতে মিশন প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সোমবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

আগের দিন রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ওই আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা করার কথাও জানান তিনি। এরপর রাতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিন মন্ত্রণালয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মোমেন বলেন, আগে থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ ধরনের একটি কমিটি ছিল। তবে সেটা স্তিমিত হয়ে যাওয়ায় রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে কমিটিকে ‘পুনর্জীবিত’ করা হয়েছে।“কমিটির কাজ হবে একটা তথ্য পেলে পরে এটা কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা… কারণ, অন্য মন্ত্রণালয় তথ্য দিলে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করি, এবং এটার সত্য মিথ্যা আমরা জানি না। এ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়, তাদের সাথে আলাপ করে যে, এই জিনিস আমরা পেয়েছি, আপনারা একটু বলেন কী অবস্থা? তারপর উনারা আমাদেরকে বলবেন।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সভাপতিত্বে রোববারের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ বিভিন্ন বাহিনীর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মোমেন জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এই সমন্বয় কমিটির প্রধান থাকবেন। তার সঙ্গে যুক্ত হবেন স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় থেকে।

“আগেও আমাদের যিনি ইউএনের ডিজি ছিলেন, উনি ওইটা কোঅর্ডিনেশন সেলের মত করেছিলেন, বাকিদের সাথে আলাপ-সালাপ করে কোঅর্ডিনেটেড ওয়েতে তথ্যগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে দেখবেন।”

অপপ্রচার রোধের জন্য এমন কমিটি করা হল কি না- এমন প্রশ্নে মোমেন বলেন, “কেবল অপপ্রচার না, ভালো খবর দিলেও তারা আমাদের জানাবেন। খালি অপপ্রচার দেখেন কেন, ভালো খবরওতো দেখতে হবে।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে কার্যকর হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “দেখা যাক কতদূর, কী হতে পারে। এটাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের তথ্যটথ্য আসলে, তথ্য বিভ্রাট হলে, আপনারা একটা সমন্বয় করে আমাদের জানায়েন।”

আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এ কমিটি করা হল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নির্বাচন বহুদিন বাকি। আমি এটা আপনাদের প্রায়ই বলি, দুনিয়ার অন্যান্য দেশে নির্বাচনের গল্পসল্প শুরু হয়, নির্বাচনের দুই-এক মাস আগে।

“আর বাংলাদেশে কী ঢং, এক বছর আগেই হৈ চৈ শুরু করে দেয়! এটা খুবই দুঃখের। আমরা নির্বাচন নিয়ে অত চিন্তিত না। নির্বাচন নির্বাচনের নিয়মেই হবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ, সবার অংশগ্রহণে এবং স্বচ্ছ হয়। সেখানে সব দল আসলে ভালো আর যারা আসবেন না, আসবেন না।”

আইনি প্রক্রিয়াতে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের উপর বিশ্বাসী। জনগণ যাকে চাইবে, তারেই ভোট দেবে। আওয়ামী লীগের স্লোগান হল আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশী তাকে দিব।”

বিদেশে বসে সরকারের বিরুদ্ধে যারা নেতিবাচক প্রচরণা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “যারা বকবক করতেছে, তারা করে যাক। তার অধিকার আছে বলার। আমরা আশা করব, জনগণ অত বোকা না। আমাদের দেশের জনগণের উপর আমাদের বিশ্বাস আছে।”

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বেগ প্রকাশ এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করার বিষয়ে এক প্রশ্নে মোমেন বলেন, “বিদেশিদের আশ্বস্ত করার আমার দরকার নাই। আমি আমার কাজ করে গেলে তারা বুঝতে পারবে এবং এরপর তারা সেটাকেই অনুসরণ করবে। জনগণ আমার সাথে থাকলে বিদেশি-দেশি, এগুলো ভুলে যান।”

 

‘ঢাকার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না’

বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের সঙ্গে রোববারের বৈঠকে মিশন প্রধানদের মিথ্যা তথ্য ও গুজবের বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে সোমবার মোমেন বলেন, “সময় সময়ে কেউ মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দেয়। সেটাও আমরা বলেছি। বলেছি, কেউ যদি মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দেয়, আপনারা চুপ করে ঢাকার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না… মিনিস্ট্রি আপনাকে হুকুম দিল, তারপরে আপনি উত্তর দিলেন। নো।

“আপনি খুবই দায়িত্বশীল লোক। সরকার আপনাকে সর্বোচ্চ কাজ দিয়েছে ওখানে। আপনি আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। যদি এই রকম মিথ্যা কেউ বলে, আপনি সেটায় প্রতিক্রিয়া জানাবেন, একেবারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।

“ওইটার জন্য আপনার মিনিস্ট্রি থেকে হুকুমের পাবেন টাবেন… পুরোনো চর্চা ভুলে যান। আমরা নতুন যুগে প্রবেশ করেছি এবং আমরা বিশ্বাস করি আপনারা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আপনারা সেই অনুযায়ী কাজ করবেন, যেটা আপনারা ভালো মনে করেন।”

ভালো-মন্দ সব খবরই সদরদপ্তরে জানানোর নির্দেশনা রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

রাষ্ট্রদূতেরা কী বক্তব্য দিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের আমরা নির্দেশনা দিয়েছি এবং বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে বলেছেন। এতদিন ধরে তারা যেটা করেন, তারা রেসপন্ড করেন না। তারা কখনও কখনও জানানও না। আমরা জানলে পরে, হুকুম দিলে তারা রেসপন্ড করে। এখনতো কাজ করার নতুন উপায় আছে, আপনারা নিজেরা করবেন। আমাদের জানাবেনও।

“কেউ কেউ হয় কি, খারাপ কিছু হলে তারা আমাদের জানাতে চান না, তারা লজ্জা পায়। আমি বললাম, লজ্জার কোনো কারণ নাই। আমরা একটা টিম। আমার প্রত্যেকটা মিশন, আমার মন্ত্রণালয়ের এক্সটেনশন।”

স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরিতে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, বাণিজ্য বাড়ানো ও জনশক্তি রপ্তানিসহ অন্য অনেক বিষয়ে মিশন প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।