আইডিয়ালের অধ্যক্ষের ‘ভুয়া’ পিএইচডি, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে

নিউজ ডেস্ক।।

রাজধানীর ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ এবং আরও দুই শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রির সনদ ‘ভুয়া’বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ড্রেস কেনা-কাটায় অর্থ আদায়, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

এই ঘটনায় কলেজটির অধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন আহম্মেদ এবং অন্য দুই শিক্ষক তৌফিক আজিজ চৌধুরী ও তরুণ কুমার গাঙ্গুলীর কাছে মঙ্গলবার (১৭ মে) ব্যাখ্যা চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়ে সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের চিঠিতে জানানো হয়, তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ, মতামত ও সুপারিশ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, কলেজের অধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন আহম্মেদ, তৌফিক আজিজ চৌধুরী ও তরুণ কুমার গাঙ্গুলী তদন্তকাজে অসহযোগিতা করেছেন। তারা তাদের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন সম্পর্কিত তথ্য প্রমাণ সরবরাহ করেননি। কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর বক্তব্যেও তাদের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য রয়েছে। এতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে কলেজ ড্রেসের কাপড় ও জুতার জন্য বিনা রশিদে ছাত্রপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ ও ছাত্রীপ্রতি ৪ হাজার এবং শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ভালো হলে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা আদায় সম্পর্কে শিক্ষকমণ্ডলীর ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য থেকে এ সম্পর্কিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে কলেজের অধ্যক্ষ কোনও মতামত ও প্রমাণ সরবরাহ করেননি।

করোনার সময়ে দুই বছরে ১১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর কথা অধ্যক্ষসহ সব শিক্ষক স্বীকার করেছেন। অধ্যক্ষ কলেজের ওই টাকা ব্যয় সম্পর্কিত কোনও মন্তব্য কিংবা প্ৰমাণ তদন্তকালে উপস্থাপন কিংবা সরবরাহ করেননি।

কলেজের অধ্যক্ষ ২০১৭ সালে যোগদানের পর ১১ জন শিক্ষক এনটিআরসিএ সনদ ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মর্মে অধ্যক্ষসহ সব শিক্ষক মৌখিকভাবে স্বীকার করেছেন। নিবন্ধন সনদ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বিধিসম্মত হয়নি। অধ্যক্ষ ও শিক্ষক নিবন্ধন ছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান তাদের দক্ষতা যাচাইমূলক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

কলেজের অধ্যক্ষ শনিবার (২ এপ্রিল) কলেজ বন্ধের ঘোষণা আগের দিন শুক্রবার রাত ১টার দিকে মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ সকলকে জানানো সম্পর্কিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অধ্যক্ষ তার নিজের নামে কলেজে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা খোলেন এবং আইডিয়াল কলেজের আগে গাজীপুর ও ঢাকার দুইটি কলেজে অধ্যক্ষ থাকার সময়ও তার (জসিম উদ্দিন) বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। লিখিত মতামত ও প্রমাণ সরবরাহের অনুরোধ করা হলেও তিনি (অধ্যক্ষ) কোনও মতামত ও প্রমাণ সরবরাহ করেননি। বিধায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

চিঠিতে তদন্ত কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণ ও মতামতের বিষয়ে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রমাণসহ ব্যাখ্যা দাখিল করতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আর দুই শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।