অসহায় সাধারণ মানুষ

নিউজ ডেস্ক।।

একটু কম দামে পণ্য কিনতে ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন; কিন্তু পড়তা না পড়ায় পকেটের সাথে দামের সমন্বয় হচ্ছে না বেশির ভাগের। বাজারভর্তি পণ্য থাকার পরও কেনার সামর্থ্য নেই সাধারণ ক্রেতার। পরিস্থিতি এমন- কেজি-প্রতি ১৮০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল। চিনির দাম বাড়ছে হু হু করে। মসুর ডাল কেজি-প্রতি পাঁচ-সাত টাকা বেড়েছে। সবজির দামেও আগুন। ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও এখনো ক্রেতার নাগালে আসেনি। এ অবস্থায় চাহিদার অর্ধেক পণ্য কিনতে পকেট ফাঁকা হচ্ছে ভোক্তার। এ চিত্র দেশের সব শহরাঞ্চলে।

গ্রামাঞ্চলে শাকসবজিসহ কিছু কাঁচামালের দাম তুলানামূলক কম হলেও কেনার সাধ্য নেই বেশির ভাগ মানুষের। এ দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর মধ্যে আকাশচুম্বী হয় মুরগি ও ডিমের দাম। এতে ক্রেতাদের নাভিশ^াস ওঠে। ফলে মাছ-গোশত কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে সীমিত আয়ের মানুষ। মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষ গোশত কিনে খাওয়া দূরের কথা; ভালো মাছ কিনেও খেতে পারছেন না এখন। ফলে সবজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তারা; কিন্তু সবজির দামও আকাশছোঁয়া।

রাজধানীর বাজারে শিমের কেজি ছিল ২০০ টাকা, শসা আকার ভেদে ৬০-৭০ টাকা; লম্বা বেগুনের কেজি ৬০ টাকা; গোল বেগুন ৮০ টাকা, টমেটো বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি; চালকুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকা, লাউ আকার ভেদে প্রতিটি বিক্রি হয় ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০, চিচিঙ্গা ৬০, করলা ৮০ টাকা, পটোল ৪০, ঢেঁড়শ ৬০, কচুরলতি ৭০, পেঁপে ৩০, বরবটি ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা। কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২০০ টাকায়। এ ছাড়া কাঁচকলার হালি ৩০ টাকা। লেবুর হালি ১৫-২০ টাকা। শুকনো মরিচের কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা। আলুর কেজি ৩০ টাকা। দেশী পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকা; আর ভারতীয় ৪০ টাকা। রসুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়; চীনা রসুন বিক্রি হয় ১৪৫-১৫০ টাকা।

আদার দর কেজি-প্রতি ৯০-১১০ টাকা। প্রতি কেজি খোলা চিনি ৯০ টাকা, প্যাকেটজাত ৯৫ টাকা। দেশী মসুর ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ১১০ টাকা। এ ছাড়া ভোজ্যতেলের লিটার ১৮৫-১৯০ টাকা। গরুর গোশত প্রতি কেজি ৬৬০-৬৮০ টাকা; খাসির গোশত প্রতি কেজি ৯০০ টাকা। বাজারে সব ধরনের মোটা ও চিকন চালের দাম বাড়তি। মোটা চাল বস্তায় বেড়েছে ২৫০ টাকা। চিকন চাল বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৩৫০-৪০০ টাকা। পরিবহন খরচের অজুহাতে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চালের দাম বেড়েছে।

একটি প্রবণতা লক্ষণীয়, ব্যবসায়ীরা সুযোগ খোঁজেন কিভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতার পকেট শূন্য করা যায়। এই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়, কোনো উপলক্ষ পেলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে বেশি মুনাফা করেন তারা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, এমন অজুহাতে পণ্যের দাম যা বাড়ানোর কথা; তার চেয়ে দ্বিগুণ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এ নিয়ে এখনো সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার। ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে সেগুলোর জোরালো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। অথচ পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে বাজার তদারকি করাই ছিল সংস্থাগুলোর কাজ। আমরা মনে করি, অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে, সেসব ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, সামাজিক নিরাপত্তার আওতা গ্রাম-শহর সব জায়গায় আরো বাড়াতে হবে সরকারকে; যাতে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসে।