অভিনব কায়দায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের ডাকাতি

ক্রাইম প্যাট্রোল দেখে

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ তারা সবাই মেধাবী। কেউ পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ কলেজে, আবার কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্ততি নিচ্ছে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এসব শিক্ষার্থীই টিভি সিরিয়াল ক্রাইম প্যাট্রোল দেখে অভিনব কায়দায় ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে নেমেছে।

সম্প্রতি শিক্ষিত যুবকদের এমন একটি চক্র পাবনা শহরে দিনে দুটি বাসায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে। একেবারে কাঁচা হাত বলে দুটির মধ্যে একটিতে ব্যর্থ হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং একটিতে সফল হলেও পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। বুধবার বিকালে এমন অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে পুলিশ।

পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম জানান, গ্রেফতার ৩ যুবক ভালো বংশের ছেলে। কারও বাবা-মা শিক্ষক, কারও বাবা-মা ব্যবসা করেন। পরিবারের সবাই শিক্ষিত। টিভি সিরিয়াল ক্রাইম প্যাট্রোল বা এ ধরনের শো দেখে তাদের নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। সবাই অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও আইটি বিষয়ে অভিজ্ঞ। তারা কয়েকটি বাসা বাড়িতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ বা কোচিং টিচারের বেশে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ১০ জানুয়ারি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ পরিচয় দিয়ে পাবনা মধ্য শহরের একটি বাসায় ঢোকার চেষ্টা করে। বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ভিডিও ধারণ করতে যান। এ অবস্থায় যুবকরা ওই বাড়ি থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরদিন ১১ জানুয়ারি দুপুরে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে শহরের জুবিলী ট্যাঙ্কপাড়ার বড় বাজার এলাকার এক বাসায় প্রবেশ করে। এরপর তারা ওই বাসার সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ৭২ হাজার টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। দিনে দুপুরে এমন ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিব্রত হয়। এরপরই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। পরে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির নগদ ৩১ হাজার টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও আসামিদের ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী হয়ে কেন, কীভাবে এমন অপরাধে জড়িয়ে গেল তা জানার জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এজন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।

পাবিপ্রবি’র প্রক্টর কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গ্রেফতার ৩ জনের মধ্যে লিখন আমাদের ছাত্র। তবে সে ক্যাম্পাসে নয়, বাইরে থাকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৯/২৩