অবসরপ্রাপ্ত, লিয়েন কর্মকর্তাদের বেতনেই ডুবতে বসেছে শিক্ষার এক কর্মসূচি

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৭ অক্টোবর ২১

অনলাইন ডেস্কঃ

শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সবচেয়ে বড় প্রোগ্রাম বা কর্মসূচি ‘এসইডিপি’। এটি নেয়া হয় ২০১৮ সালে। এই প্রোগ্রামের আওতায় ৩১টি স্কিম ২০২৩ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ রয়েছে। এসব স্কিমের (পরিকল্পনা বা ছোট প্রকল্প) শুধুমাত্র ‘ডকুমেন্টস’ (দলিল) তৈরির জন্যই প্রায় ১০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এর জন্য পাঁচগুণ বেশি বেতনে পরামর্শক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং লিয়েনে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হলেও তারা কাজ না করেই মেয়াদ শেষ করেছেন। তবে কোন স্কিম ডকুমেন্ট তৈরি হয়নি। সময়মত স্কিম ডকুমেন্ট তৈরি না হওয়ায় এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়েছে।

বর্তমানে তিনটি স্কিমের বাস্তবায়ন হচ্ছে, যেগুলোর দলিল মাউশির তৈরি। এসইডিপির অগ্রগতি ১৫ শতাংশের কাছাকাছি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় এখন পুরো প্রোগ্রামই বদলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ‘রি-ডিজাইন’ হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অপচয় কমাতে পরামর্শক ও লিয়েনে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার পদগুলো বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পরামর্শকদের ‘অস্বাভাবিক’ বেতনভাতা নিয়ে আপত্তি

প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’র (এসইডিপি) আওতায় স্কিমগুলো বাস্তবায়নের দলিল প্রণয়নের জন্য নিয়মিত কর্মকর্তা পদায়ন না দিয়ে পাঁচগুণ বেশি বেতনে ‘লিয়েনে’ (ডেপুটেশন) ৮০ জনের মতো কর্মকর্তাকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

তারা পাঁচগুণ বেশি বেতনভাতা নিলেও নির্ধারিত মেয়াদে ‘ডিপিপি’ প্রণয়ন করতে পারেননি। আবার কয়েকটি কর্মপরিকল্পনা ও ডিপিপি প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগে জমা দিলেও সেগুলোর বেশিরভাগই ‘নাকচ’ হয়ে গেছে। অথচ ৮০ জন পরামর্শকের বেতনভাতা বাবদ মোট ১০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল; যার সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে।

ডিপিপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসইডিপি প্রোগ্রামের প্রধান- ‘ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর’ হবেন গ্রেড-২ এর সমমানের কর্মকর্তা অর্থাৎ সরকারের অতিরিক্ত সচিব। প্রকল্প দলিলে তার বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়নি; তবে সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব এক লাখ টাকার কিছু বেশি বেতনভাতা পান।

কিন্তু প্রকল্প দলিলে তার অধীনস্ত একই গ্রেডের ‘সিনিয়র কলসালটেন্ট’ (পরামর্শক) হিসেবে একজন ‘প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর’র বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরামর্শকদের এই অস্বাভাবিক বেতনভাতা নিয়েই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে নানা রকম সমালোচনা হচ্ছে।

মাউশির অধীনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। সংস্থাটির শীর্ষ পদটি গ্রেড-১ এর সমমর্যাদার। কিন্তু মাউশির বর্তমান মহাপরিচালক গ্রেড-৩ এ বেতনভাতা পাচ্ছেন। মর্যাদাগত এই বৈষম্যের বিষয়ে মহাপরিচালক ও সংস্থার পরিচালকরা বিভিন্ন সময়ে ‘এসইডিপি’ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এরপর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার নজরে আসে।

এসইডিপিতে ‘অতিরিক্ত প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর’ (গ্রেড-৩; যুগ্ম-সচিব বা সমমান) হিসেবে চারজন সিনিয়র কনসালটেন্ট পদায়ন পাবেন, যাদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ সরকারের একজন যুগ্ম-সচিব প্রায় ৮০/৯০ হাজার টাকা বেতনভাতা পান।

‘ডেপুটি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর’ (গ্রেড-৪/৫, উপ-সচিব সমপর্যায়ের) হিসেবে আটজন কনসালটেন্ট লিয়েনে পদায়ন পাবেন, যাদের বেতন নির্ধারণ করা হয় জনপ্রতি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। ‘অ্যাসিসট্যান্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর’ (গ্রেড-৬, সিনিয়র সহকারী সচিব সমপর্যায়ের) হিসেবে ১৬ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগ পাবেন, যাদের বেতন নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ টাকা করে।

এই প্রোগ্রামে মোট ৮০ জনের কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জন নিয়োগ পান লিয়েনে ছুটি নিয়ে ও ‘ডেপুটেশনে’ (প্রেষণ) ছুটি নেয়া দু’জন নিয়োগ পাওয়ার কথা। অন্যরা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

সাধারণত বিদেশি সংস্থায় কাজে যোগদানের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ‘লিয়েন’ ছুটি মঞ্জুর করা হয়। এক্ষেত্রে কিছু বিধিবিধান মেনে নিতে হয়। বিশেষ করে লিয়েনকালীন সময়ে সাধারণ তহবিল চাঁদা, কল্যাণ তহবিল ইত্যাদি হতে গৃহীত অগ্রিম সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। কিন্তু এই কর্মসূচিতে লিয়েনে ছুটির ব্যতয় দেখা গেছে। এখানে সরকারি কর্মকর্তারা লিয়েনে ছুটি নিয়ে সরকারি প্রকল্পেই কাজ করছেন।

মাউশি ও অন্য সংস্থাগুলোর অসহযোগিতা

এসইডিপির বেশিরভাগ স্কিমই ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই সংস্থার কর্মকর্তারা ওইসব স্কিম বাস্তবায়নে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য সংস্থা বিশেষ করে, ব্যানবেইস, এনসিটিবি, মাদ্রাসা ও কারিগরি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসইডিপি প্রোগ্রাম গ্রহণের সময় মাউশি বা অন্য কোন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এর বিরোধিতা করেননি। আবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মতামতও নেয়া হয়নি। সাবেক তিন-চারজন কর্মকর্তা তড়িঘড়ি করে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তারা পরবর্তীতে ওই কর্মসূচিতেই উচ্চ বেতনে পরামর্শক হিসেবে পদায়ন ভাগিয়ে নেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে গত এপ্রিলে নিয়োগ পাওয়া প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসিইউ) কর্মসূচি বাস্তবায়নে গতি ফেরাতে নানাভাবে চেষ্টা করছেন বলে মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে এসইডিপির ‘প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর’ ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মামুনুল আলম গত ২৬ অক্টোবর নিজ দপ্তরে সংবাদকে বলেন, ‘প্রোগ্রামটি ভালো; তবে অগ্রগতি ভালো বলা যাবে না। আমি এই প্রোগ্রামের দায়িত্ব নেই গত ১২ এপ্রিল। এই ছয়-সাত মাসে সর্বাতক চেষ্টা করেছি; খুব বেশি আগানো যায়নি। কারণ এই কর্মসূচির ডকুমেন্ট ঠিকভাবে তৈরি হয়নি। মাউশি ও বিভিন্ন সংস্থা বা অধিদপ্তরের যেসব কাজ রয়েছে, তারাও নিজেদের কাজগুলো ঠিকমত করছে না।’

বিশাল এই কর্মসূচি গ্রহণের আগে বিভিন্ন অংশীজন (স্টেকহোল্ডার) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত সংস্থাগুলোর মতামত না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর বলেন, ‘আমিও এই ধরনের কোন ডকুমেন্ট পায়নি। নানা সমস্যা-সীমাবদ্ধতার কারণেই এই প্রোগ্রামকে পুরোপুরি রি-ডিজাইন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি আছে, তারা কাজ করছেন; আমি যতুটুক জানি একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। এখন সচিব স্যার ও মন্ত্রী মহোদয় সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এসইডিপিতে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা সরকারের সাবেক ও বর্তমান অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা। পাশাপাশি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা ক্যাডারের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তাও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন ওই প্রোগ্রামে।

মাউশির অধীনে শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। মাউশি’র ২৪টি প্রকল্পকে একটি প্রোগ্রামের অধীনে নেয়া এবং নতুন কয়েকটি স্কিম গ্রহণের লক্ষেই ‘এসইডিপি’ গ্রহণ করা হয়।

ওইসব প্রকল্পের প্রতিটির জন্যই নিজস্ব জনবল রয়েছে। এসব প্রকল্পের কার্যক্রম তদারকির জন্য এসইডিপি’র ‘প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন ইউনিটে’ (পিসিইউ) ৮০ জন কর্মকর্তার বিশাল ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

কিন্তু মেয়াদ প্রায় শেষ হতে চললেও উপবৃত্তি প্রকল্প ছাড়া আর কোনো প্রকল্পকেই ওই প্রোগ্রামের আওতায় নেয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মাউশি ও এসইডিপি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে।

মাউশি কর্মকর্তাদের দাবি ‘ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপাইল’ বা ডিপিপি অনুযায়ী, এসইডিপি বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ হলো মাউশি। কিন্তু এই প্রোগ্রাম বা কর্মসূচি সর্ম্পকে মাউশি অন্ধকারে রয়েছে।

এসইডিপির সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক গতকাল নিজ দপ্তরে সংবাদকে বলেন, ‘এই প্রোগ্রামের পিসিইউ ইউনিট আছে; অগ্রগতি সম্পর্কে তারাই ভালো বলতে পারবেন, যারা ডিল করছেন। আমি তেমন কিছুই জানি না।’

মাউশিকে প্রোগ্রামের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়া হয় কি না জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘তথ্য জানানোর প্রয়োজন নেই। কারণ, আমরা এটা ডিল করি না।’

এসইডিপির ডিপিপি ‘রি-ডিজাইন’ করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘রি-ডিজাইন হচ্ছে। তবে এখনও কোন কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।’

মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. এ কিউ এম শফিউল আজম সংবাদকে বলেন, ‘পদাধিকার বলে এসইডিপি প্রোগ্রামটির মাউশির অধীনে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। তবে এটি সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ কারণে মাউশিতে এসইডিপি-সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই।’

এ বিষয়ে পিসিইউ ইউনিটের প্রধান সৈয়দ মামুনুল আলম বলেন, ‘এসইডিপি প্রকল্প নয়, এটি একটি প্রোগ্রাম। প্রোগ্রাম সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনেই বাস্তবায়ন হয়।’

তবে ‘পিসিইউ’ ইউনিটে ৮০ জন জনবলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি প্রোগ্রামে এত জনবলের প্রয়োজন নেই। এ কারণে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর অতিরিক্ত নিয়োগ-পদায়ন বন্ধ রেখেছি। এ পর্যন্ত ৩১টি স্কিমের মধ্যে আমরা মাত্র ৩/৪টি নিতে পেরেছি। তাহলে এত জনবল দিয়ে কী হবে? এসব সমস্যার কারণেই প্রোগ্রামটির প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।’

প্রোগ্রামের অর্থায়ন

এসইডিপি কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৭.২ বিলিয়ন ইউএস ডলার (১৭ হাজার ২০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার), যা প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৬ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

অবশিষ্ট ৫০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নের পরিমাণ ২২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। বিশ্বব্যাংক আরও ১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার জিএফএফ গ্রান্ট হিসেবে প্রদান করছে।

সব মিলিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৮০ শতাংশ অর্থের যোগানদাতা বাংলাদেশ সরকার। বাকি ২০ শতাংশ ব্যয় বহন করছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোসহ মোট ছয়টি সংস্থা। শর্তানুসারে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হলে দাতা সংস্থাগুলো প্রকল্পে ভূতাপেক্ষভাবে ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে এসইডিপির অনুকূলে ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। ৩৫টি শর্তে এই ঋণ ছাড় করা হয়। এর মধ্যে গত বছরের নির্ধারিত ছয়টি শর্ত ‘সন্তোষজনকভাবে’ সম্পন্ন করায় এ ঋণের অর্থ ছাড় করা হয় বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

ওই সময় বলা হয়, এসইডিপির আটটি ক্ষেত্রে ৩৫টি ফলাফল অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা দেয়ার বিষয়ে ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

‘অর্জিত’ ছয়টি ফলাফলের মধ্যে রয়েছে- পঞ্চম শ্রেণী সম্পন্ন করার পর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ডায়াগনস্টিক অ্যাসেসমেন্ট গাইডলাইন তৈরি করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময় মনিটরিংয়ের গাইডলাইন তৈরি করা, হারমোনাইজ স্টাইপেন্ড ব্যবস্থা চালু করাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

এসইডিপি কর্মসূচি গ্রহণের সময় তিনটি ধাপে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। প্রথম ধাপে, মাউশির নিজস্ব ২০ তলা ভবন নির্মাণ, কারিগরি ও মাধ্যমিক শিক্ষার কারিকুলাম উন্নয়ন ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণকরণ, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ে শিখন-শেখানো পদ্ধতির উন্নয়ন, পাঠাভ্যাস উন্নয়ন, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমে আইসিটির ব্যবহার বৃদ্ধি, মাধ্যমিক শিক্ষাকে শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণকরণ ইত্যাদি লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ।সূত্র:দৈনিক সংবাদ