অপহৃত কলেজ ছাত্রী উদ্ধার হয়নি ১০ দিনেও

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, বুধ, ১৩ জানুয়ারি ২১

নিউজ ডেস্ক ||

নিজ বাড়ি থেকে অপহরণের ১০ দিন পরও উদ্ধার হয়নি জামালপুরের কলেজছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া তানজিয়া(১৫)। অপহরণকারীরা তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা ও গুম করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বজনরা।

পুলিশের রহস্যজনক নিরবতার কারণে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামির জামিন ও প্রধান আসামিসহ অন্য আসামি গ্রেফতার না হওয়ার অভিযোগ করেন মামলার বাদী। তবে পুলিশ বলছে, আসামিরা পালাতক থাকায় অপহৃতাকে উদ্ধার ও মূল আসামিকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।

অপহৃতা তানজিনার বাবা এখলাছুর রহমান জানান, জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের জোয়ানেরপাড়া গ্রামে বসবাস করেন তারা। স্থানীয় দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা। তানজিনার সঙ্গে জোরপূর্বক প্রেমের সম্পর্ক গড়তে দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই ইউনিয়নের গান্দাইল এলাকার সফির উদ্দিনের বখাটে ছেলে সাঈদ হাসান সিয়াম (২০)। তানজিয়া তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়তে রাজি না হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে সিয়াম। তানজিয়া বিয়ের প্রস্তাব না মানলে তার পরিবারের স্বজনদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল সিয়াম।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বখাটে সিয়ামকে উত্ত্যক্ত না করার জন্য তার পরিবারকে সতর্কও করেছিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হাওয়ায় গত ৩ জানুয়ারি সকালে সিয়াম ও তার লোকজনরা নিজ বাড়ি থেকে তানজিয়াকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় অপহরণকারী সিয়াম ও তার মা জেসমিন আক্তারসহ ছয়জনকে আসামি করে গত ৫ জানুয়ারি জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন অপহৃতা তানজিয়ার বাবা এখলাছুর রহমান। কিন্তু অপহরণের ১০ দিন পরও পুলিশ তানজিয়াকে উদ্ধার করতে পারেনি। তানজিয়ার বাবার দায়ের করা মামলায় ছয় আসামির মধ্যে তিন আসামি কৌশলে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি অপহরণকারী সাঈদ হাসান সিয়ামসহ অন্য আসামিদের এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

তানজিনার বাবার অভিযোগ, অপহরণের ১০ দিন পরও পুলিশ তার মেয়ে তানজিয়াকে উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশের রহস্যজনক নিরবতার কারণে অপহরণ মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তার মেয়েকে উদ্ধার করতে না পারলে পাশবিক নির্যাতন শেষে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে ফেলারও আশঙ্কা করছেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্থানীয় নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আলিম জানান, মামলার তিন আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। প্রধান আসামি সিয়ামসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার ও অপহৃতা তানজিয়াকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.