অনুপস্থিত শিক্ষার্থী খুঁজতে বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, বৃহঃ, ২৩ সেপ্টেম্বর ২১

নিউজ ডেস্ক।।

স্কুল খুলেছে, কিন্তু ক্লাসে ফেরেনি অনেক শিক্ষার্থীই। ফলে এ নিয়ে খোদ সরকারের মধ্যেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। টানা দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলেছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায়ে। আর এই হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশেও পৌঁছেছে।

সংখ্যার দিক দিয়ে প্রাথমিকের ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষার্থী সাড়ে ৪৮ লাখ। সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশাল অঙ্কের শিক্ষার্থীদের খুুঁজে বের করতে বা স্কুলে অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তথ্য জানাতে হবে। আর এই দায়িত্ব পালন করতে হবে স্বয়ং প্রাথমিকের শিক্ষকদেরই। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এ বিষয়ে একটি নির্দেশনাও জারি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। এ পরিস্থিতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকদের। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বা ফোন করে বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে।

যদিও এর আগে প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের সব ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি মনিটরিং করতে পৃথক পৃথক টিম গঠন করা হয়। এই টিম শুরু থেকেই একটি ছকের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি কত সেটা মনিটরিং করছে। সেখানে দেখা গেছে গ্রামের চেয়ে শহরের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা বেশি। আর গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর কোনো খোঁজই নেই। তারা স্কুলেও আসছে না, কোনো যোগাযোগও করছে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দেয়া তথ্য মতেই গ্রামের শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।

সূত্র আরো জানায়, দেড় বছর পর স্কুল খুললেও প্রাথমিক পর্যায়েই ক্লাসে ফেরেনি সাড়ে ৪৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। ধারণা করা হচ্ছে, এসব শিক্ষার্থী হয়তো তাদের নিয়মিত ক্লাসে আর ফিরবেও না। অন্য দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। অনেক অভিভাবক এখনো করোনার ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। পরিস্থিতি আরো একটু স্বাভাবিক হলেই সব শিক্ষার্থীই ক্লাসে ফিরবে।

শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই বড় একটি সংখ্যা স্কুলে ফেরেনি তা নয়, বেসরকারি অনেক কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কত শতাংশ অন্য স্কুলে আবার ভর্তি হয়েছে বা হয়নি তারও কোনো পরিসংখ্যান জানা যায়নি। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করোনার প্রভাবে গত দেড় বছরে ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেই এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠরত শিক্ষার্থীরা এখনো হিসাবের বাইরে রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে আরো জানা গেছে, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা চার কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে যদি ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ধরা হয় তাহলেও এটা সংখ্যার হিসাবে ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৮ জন।

এ দিকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিখন ঘাটতি পূরণে সেখানে শিক্ষকদের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ডিপিইর মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী স্কুল খোলার শুরুর দিকে ক্লাসে আসবে না এটা স্বাভাবিক ছিল। আমরাও ধরেই নিয়েছিলাম হয়তো কিছু শিক্ষার্থী প্রথম দিকে ক্লাসে ফিরবে না। তবে এই সংখ্যাটা এখন অনেকটাই বেশি। তাই আমরা নতুন করে শিক্ষকদের জন্য কিছু নির্দেশানা দিয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য একটি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে হবে। উল্লিখিত তথ্যে শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণী, রোল, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কী কারণে অনুপস্থিত, গৃহীত পদক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয় সংবলিত থাকবে।

তিনি আরো জানান, শিক্ষকরা অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ স্থাপন করে উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে হোম ভিজিটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে। এ ছাড়া প্রত্যেকটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের দৈনিক উপস্থিতির (শ্রেণিভিত্তিক) হার নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। শিক্ষার্থী উপস্থিতির ঘাটতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত, তাদের অভিভাবকরা বেশির ভাগই অন্যত্র চলে গেছেন। তারা আর ফিরে আসতে চান না। বিশেষ করে জেলা শহরগুলো থেকে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আর ফিরে আসবে না।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.