অতিরিক্ত সচিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বাতিল চায় ঢাবি শিক্ষক সমিতি

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, শনি, ৮ মে ২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জামালপুরে অবস্থিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা এক অতিরিক্ত সচিবকে নিয়োগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগের দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভুইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার রাতে অনলাইনে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কার্যকর পরিষদের এক জরুরি সভায় শিক্ষকগণ এ নিয়োগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় এসকল পদের ব্যক্তিরা উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগীকরণ, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষকদের গুণগত মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার কাজ করে থাকেন বিধায় শিক্ষা ও গবেষণায় সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষেই নিয়ত পরিবর্তনশীল উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব। এছাড়াও, ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বিভিন্ন সভায় সভাপতিত্ব করে থাকেন। শিক্ষক সমিতি মনে করে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় পদে প্রচলিত রীতি ভঙ্গ করে একজন অতিরিক্ত সচিবের নিয়োগ রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রের ন্যায় উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রেও আমলাদের পদায়নের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ যা শিক্ষক সমাজ কোনভাবেই মেনে নেবেন না।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পেশার কর্মক্ষেত্র ও পরিধি সুনির্ধারিত। ভিন্ন পেশার একজন ব্যক্তিকে উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে পেশাগত আন্তঃসম্পর্ককে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্র ও প্রশাসনে অস্থিরতা সৃষ্টির হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র যা নিকট অতীতেও লক্ষ্য করা গেছে। এই প্রক্রিয়ায় জড়িতদের ব্যাপারে সরকারের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষক সমিতি।

 

বিবৃতিতে সকল বিশ্ববিদ্যালয় ‘৭৩-এর আদেশের চেতনার আলোকে পরিচালিত হওয়া বাঞ্ছনীয় উল্লেখ করে যেসকল বিশ্ববিদ্যালয় আইনে এই মৌল চেতনার ব্যত্যয় হয়েছে সেগুলো অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষপদ শূন্য হওয়ার সাথে সাথে কালক্ষেপণ না করে যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ প্রদানের দাবি জানায় শিক্ষক সমিতি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.