অটো পাসে খালি হচ্ছে না সিট নতুন ভর্তির সুযোগও সীমিত

প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, শুক্র, ২৭ নভেম্বর ২০

নিউজ ডেস্ক।।

করোনার কারণে এ বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে অটো পাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে লটারি করা হলেও শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সীমিত হবে। কেননা কোনো শ্রেণীতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রধানতম শর্তই হচ্ছে ওই শ্রেণীতে আসন শূন্য থাকতে হবে। করোনার কারণে এ বছর যেহেতু সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীই অটো পাসের আওতায় উপরের শ্রেণীতে প্রমোশন পাচ্ছে, তাই আসন শূন্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর এ কারণে নতুন শ্রেণীতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগও সীমিত।

সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে আগামী শিক্ষাবর্ষে কোন প্রক্রিয়ায় নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হবে তা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি নিজেই। আগামী শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হবে। পয়লা জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে।

এ দিকে অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যেহেতু করোনার কারণে সরকার এ বছর সব শিক্ষার্থীকেই অটো পাস দিয়ে উপরের ক্লাসে প্রমোশন দিয়ে দিচ্ছে তাই নতুন কোনো ক্লাসে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগও কমে যাবে। এর পরেও শিক্ষার্থী স্থানান্তর কিংবা অন্য কোনো কারণে যদি কিছু আসন খালি হয় তাহলে সেখানে যেন স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

চলমান করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণীতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর সরকারি সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংশ্লিষ্ট দক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করে লটারি কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: জিয়াউল কবির দুলু  জানান, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি নতুন কোনো ক্লাসে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ বছর সব শ্রেণীতে অটো পাস দেয়ায় দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণীতে আসন খালি থাকবে কম। আসন খালি না থাকলে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে না বা শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেয়া যাবে না। সে জন্য ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণী ছাড়া অন্যান্য শ্রেণীতে লটারিতে কম শিক্ষার্থী অংশ নেবে এবং অভিভাবকদের উপস্থিতি কম হবে।

কয়েকজন অভিভাবক জানান ভালো মানের স্কুল কম থাকায় রাজধানী ঢাকায় হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি স্কুলে খালি আসনের চেয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির আশঙ্কায় প্রচণ্ড চাপ থাকে। সেজন্য প্রতিযোগীও বেশি হয়। তাই ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজধানীর নামকরা স্কুলগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করে তাদের উপস্থিতিতে লটারি কার্যক্রম পরিচালনারও দাবি জানান তারা।সূত্রঃনয়া দিগন্ত

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.