অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডের ডিগ্রি ২৭ বছরে

ভাবতে পারেন, ডাকটিকিট কিংবা মুদ্রা জমানোর মতো ডিগ্রি জমানো হয়তো জেমির শখ। তা নয়। পড়ালেখা করতে ভালোবাসেন তিনি। আর বিশ্বাস করেন, বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়লে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক দরজা খুলে যায়। জেমির মতে, ‘বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাঙ্কিং দেখলে বুঝবেন, ২০টার মধ্যে ১৭টাই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের। সাধারণত নিউজিল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার কোনো বিদ্যালয় সেরা ২০-এ স্থান পায় না।’ বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে একটি বইও লিখেছেন তিনি। নাম অ্যাকসেপ্টেড! সিক্রেটস টু গেইনিং অ্যাডমিশন টু দ্য ওয়ার্ল্ডস টপ ইউনিভার্সিটিজ। তাঁর বক্তব্য, ‘শুধু উচ্চমানের শিক্ষা আর ভালো চাকরির সুযোগই করে দেয় না, নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পৃথিবীর সেরা বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে সময় কাটানো যায়। এখান থেকে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত তরুণেরা জন্মভূমিতে ফিরে দেশের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারেন।’

হার্ভার্ড থেকে পড়ালেখা শেষ করেই ওয়াল স্ট্রিটে চাকরি পেয়ে গিয়েছিলেন জেমি। আর সেখানেই বিস্তৃতি পেয়েছে তাঁর ভাবনার পরিসর। কম বয়সী তরুণেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাচ্ছেন, যুগান্তকারী আবিষ্কার করছেন দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তিনি।

ছেলেবেলা থেকেই পড়ালেখায় মনোযোগী বিটন। তাঁর বয়স যখন ১৩, ট্রেনে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচয়। সেই শিক্ষার্থী হাইস্কুলের ফার্স্ট বয় ছিলেন, পরে তিনি ইয়েলে ভর্তি হন। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন জেমি বিটন।

‘১৩ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত আমি শুধু এই একটা বিষয় নিয়েই ভাবতাম। নিজের প্রোফাইল গড়ে তুলতে কীভাবে নিয়মিত পাঠ্যক্রমের বাইরে আরও নানা কাজ করা যায়।’ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে এ লেভেলের শিক্ষার্থীরা সাধারণত তিন-চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেন। সেখানে ১০ বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন জেমি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখার পাশাপাশি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাও গুরুত্ব পাবে। তাই স্কুলে বিভিন্ন ক্লাব চালু করেন। টেনিস, হকি, থিয়েটার, বিতর্ক—সবকিছুতেই যুক্ত হন।

নানা ধরনের পড়ালেখার অভিজ্ঞতা থেকে জেমি বুঝতে পারেন, এ ব্যাপারে তরুণদের আরও জানা দরকার। তাই ২০১৩ সালে চালু করেন ‘ক্রিমসন এডুকেশন’। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে সাহায্য করা হয়। কোন বিষয়ে পড়ব, কোন ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হব, অনলাইনে কী কোর্স করব—এমন নানা বিষয়ে পরামর্শ দেয় ক্রিমসন এডুকেশন। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ৬৩০ জন। সঙ্গে আছেন আরও ৩০০০ শিক্ষক ও পরামর্শদাতা।

স্ট্যানফোর্ডে পড়ার সময় জেমির মাথায় আসে—একটা অনলাইন স্কুল চালু করলে কেমন হয়? ব্যস, জন্ম নেয় ক্রিমসন গ্লোবাল একাডেমি। সেখানে এখন শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৯০০। টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের সন্তানও এই অনলাইন স্কুলে পড়েছেন।

সপ্তম ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করতে করতেও জেমি বলেন, ‘আমার আরও অনেক কিছু জানার বাকি। যত দিন সম্ভব, পড়াশোনা চালিয়ে যাব।’

সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ