অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শিক্ষকতার পেশায় নৈতিকতা খুবই জরুরি

 শিক্ষাবার্তা ডেস্ক ||

রাজধানীসহ দেশব্যাপী তথাকথিত খ্যাতনামা স্কুলগুলো ভালো রেজাল্ট করে বলে সেগুলোর প্রশাসন ও শিক্ষকম-লী এখন আর জবাবদিহির মনোভাবের পরিবর্তে খবরদারির অভিযোগ পুরনো। সামান্য ভুলের কারণে শিক্ষকরা অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করে থাকেন। সরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষকরা মনে হয় সব জবাবদিহির ঊর্ধ্বে। নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক অভিভাবক প্রতিবাদ করেন না। একটা কিশোর বা কিশোরী অসদুপায় অবলম্বন করলে বা নীতিবিরোধী কোনো কাজ করলে সেটা কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় সেই জ্ঞান আর সেন্সিবিলিটি যাদের নেই তারা শিক্ষক হওয়ারই যোগ্য নয়।

বলা হচ্ছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রীর কাছে পরীক্ষার হলে মোবাইল পাওয়া গিয়েছিল। নবম শ্রেণির পরীক্ষা মানেই স্কুলের মেধা যাচাইয়ের উদ্যোগ। এটা জাতীয় পর্যায়ের কোনো পরীক্ষা নয়। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলো নেয়াই হয় অধিকতর মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভুল-শুদ্ধ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য।

তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেয়া হয়, খুদে এই শিক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করেছিল, কিন্তু সেটা কি সংশোধনের অযোগ্য ছিল? আমাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় এটা কি এমন বিরল ঘটনা, যার জন্য শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় ত্যাগের দ- দেয়া হবে? শিক্ষকদের কি আর ভিন্ন কিছু করার ছিল না? অরিত্রীকে মৃত্যুর দিকে প্ররোচিত না করে কি এই ঘটনার মীমাংসা করা যেত না? অরিত্রী ও তার বাবার ক্ষমা প্রার্থনা কি এমন অপরাধের জন্য যথেষ্ট ছিল না? স্কুল পর্যায়ে সাধারণ কোনো অপরাধের জন্য একজন শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের ক্ষমা প্রার্থনার চেয়ে অধিক আর কী করার আছে, দেশের প্রচলিত আইন ও প্রথায়?

নামকরা স্কুলগুলোতে আসলে লেখাপড়া কি হয় তা সবারই জানা। প্রাইভেট টিউটর ও কোচিংয়ের পেছনে অভিভাবকদের অর্থ ব্যয়ের কল্যাণে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করে থাকে। এ ছাড়া ভর্তিও করানো হয় বাছাই করে। এসব স্কুলগুলোর শিক্ষকদের কোনো অবদান ভালো ফলাফলের পেছনে আছে কি? এ সব স্কুলের শিক্ষকদের কৌশল হচ্ছে তারা স্কুলে পড়াবে না কিন্তু বাসায় কীভাবে অভিভাবকদের চাপ দিয়ে পড়া আদায় করা যায়, তা তাদের ভালো করে জানা। আর পান থেকে চুন খসলেই স্কুলের ডাইরিতে মন্তব্য আর অভিভাবকদের ডেকে নানাভাবে অপমান-অপদস্থ করা। এগুলো আমাদের অসুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা ও বাণিজ্যিকীকরণের ফল।

আগে তো শিক্ষা এতটা বাণিজ্যিক ছিল না, শিক্ষকরা এত নীতিভ্রষ্ট ছিলেন না। তারাও অর্থকষ্টে ভুগতেন, তাই বলে কখনো অর্থলোভী হতেন না। গড়ি-বাড়ির স্বপ্নও তারা দেখতেন না। সততা, সরলতা ও সব কিছুতেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে চলতেন, তারা ছিলেন আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতার মূর্ত প্রতীক। তাদের পায়ে জুতা ছিল না; খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে তারা স্কুলে আসতেন।

সব সুবিধা নেই এর মধ্য থেকেও ছাত্রদের আকর্ষণ ছিল শুধুমাত্র শিক্ষকদের প্রচণ্ড ব্যক্তিত্ব ও ভালোবাসা। শিক্ষকতার পেশায় নৈতিকতা খুবই জরুরি। নীতি-নৈতিকতা বোধ জাগ্রত না হলে কারো পক্ষে এ মহান পেশায় থাকা ঠিক নয় শিক্ষক হবেন রোল মডেল বা আদর্শ, জ্ঞানের উৎস, আনন্দের ভা-ার ইত্যাদি। অর্থাৎ একজন শিক্ষক হবেন চতুর্মুখী প্রতিভার অধিকারী।

একই ধরনের আরও সংবাদ