অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ভিকারুননিসা ছাত্রীর এই মায়ের কান্না থামাবে কে?

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

অরিত্রি অধিকারী ভিকারুন্নেসা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার ছোট বোন ঐন্দ্রিলা অধিকারীও একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের নিয়েই বাবা-মায়ের যত স্বপ্ন। তবে তাদের সেই স্বপ্নে বাঁধ সেধেছে অরিত্রির চলে যাওয়া। স্কুলে বাবার অপমান সইতে না পেরে সে না ফেরার দেশে চলে গেছে। তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না সহপাঠী ও স্বজনরা। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন অরিত্রির মা। সান্তনা দেয়ার ভাষা নেই কারো। এই মায়ের কান্না থামানোর কেউ নেই। বাবারও একই অবস্থা। মেয়েকে হারিয়ে এখন তিনি বাকরুদ্ধ।

জানা গেছে, অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী একজন কাস্টসম (সিঅ্যান্ডএফ) ব্যবসায়ী। মা বিউটি অধিকারী গৃহিণী। রাজধানীর শান্তিনগরে থাকেন তারা। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। অরিত্রির বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার সময় মোবাইল নিয়ে যাওয়ায় অরিত্রির বাবাকে স্কুলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় মেয়ের সামনেই তাকে অপমান ও নাজেহাল করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি সইতে না পেরে বাসায় ফিরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অরিত্রি। তার এভাবে চলে যাওয়া একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না হয়েই থাকবে।

অরিত্রির বাবা বলেন, মেয়ের জন্য ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। তিনি সদয় হননি। প্রিন্সিপালের কাছে গিয়েও ক্ষমা চেয়েছি তিনিও সদয় হননি। মেয়েকে টিসি দেয়ার ব্যাপারে অনড় তারা। আমার মেয়েও প্রিন্সিপালের পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছে কারো মন গলেনি। পরের দিন টিসি নিয়ে আসতে বলা হয়। উপায় না দেখে এসময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। ছোট আদরের মেয়ে আমার ওই কান্না ও অপমান মেনে নিতে পারেনি। বাসায় গিয়েও সব শেষ করে দিয়েছে। নিজের জীবন দিয়ে অপমান গুচানোর চেষ্টা করেছে। অরিত্রির বাবার অভিযোগ, প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করায় তার মেয়ে দ্রুত বাসায় চলে যায়। বাসায় ফিরে সে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

জানা গেছে, পরীক্ষায় মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অপরাধে ছাত্রীর বাবাকে ডেকে নিয়ে অপমান করায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি। স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয় অরিত্রি নকল করে ধরা পড়েছে তাই তাকে ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে মুষড়ে পড়ে ওই ছাত্রী। পরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সোমবার দুপুরে শান্তিনগরের ৭ তলার বাসায় অরিত্রি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে বিকাল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ