অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ছাত্রীর আত্মহত্যা : দায় কার ?

 মন্তব্য প্রতিবেদন ||

‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল বাবাকে ঢেকে অপমান করায় নবম শ্রেণির অরিত্রি অধিকারী নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের বাবার নাম দিলীপ অধিকারী।  নিহত ছাত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ‘ক’ শাখার ছাত্রী। তার রোল নম্বর ১২।

পারিবারিক ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, স্কুলে সাথে মোবাইল রাখার কারণে শিক্ষক পরীক্ষা দিতে দেবে না বলে অরিত্রিকে জানায়। পরে তার বাবা ও মাকে সাথে নিয়ে প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করে অরিত্রি অধিকারী। সেখানে অরিত্রির বাবা-মাকে অপমান করেন প্রিন্সিপালসহ পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য।

এমনকি তারা আগামীকাল মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতেও বলেন। অপমান সইতে না পেরে বাবা দিলীপ অধিকারী কান্না করেন। এ সময় অরিত্রি দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে দিলীপ অধিকারী ও স্ত্রী বাড়ি গিয়ে দেখেন অরিত্রি তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছে।’

এই যে একটি কিশোর জীবন শেষ হয়ে গেল। দায়টা কে নেবেন ?

অভিযুক্ত শিক্ষক নাকি পরিচালনা পরিষদের সদস্য ? নাহ কারো কোন দায় নেই। দায়হীনতার এ সমাজে সবাই হারিয়ে যাচ্ছে।

একজন শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। মানুষ মারার না। এই সাধারণ ব্যাপারটা যাদের মাথায় নেই তাদের শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় না আসায় ভালো। দয়া করে মহান এ পেশাকে কুলষিত করবেন না। গ্রামের একজন শিক্ষক খেয়ে না খেয়ে তার মহান পেশার নেশায় জীবনটা কাটিয়ে দেন। কেউবা আজীবন বেতনের মুখ না দেখতে পেয়ে মারা যান। তবুও তারা শিখিয়ে চলেছেন। তাদের সেই কোমল কঠিন শাসনে আমরা বড় হয়ে উঠেছি। মানুষের মতো মানুষ হতে শিখেছি। আর এখনকার দুএক জন শিক্ষকের অমানুষ সুলভ ব্যাবহারের দায় পুরো শিক্ষক সমাজ নেবে না।

অবিলম্বে, অরিত্রি অধিকারীকে আত্ন হত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

একই ধরনের আরও সংবাদ