অধিকার ও সত্যের পক্ষে

‘বাণিজ্যিক’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয় বাড়ানোর কিছু প্রস্তাব!

 হাবিবুর আর খান ॥

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক সিনেমা ‘দহনে’র মুক্তি নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিনেমা প্রদর্শনীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলা ও হুমকি ধমকির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাগ, ক্ষোভ আর হতাশা থেকে প্রস্তাব উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ‘বাণিজ্যিক’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হোক! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে লাভজন করতে হাবিবুর আর খানের তেমনি কিছু প্রস্তাব ক্যাম্পাসলাইভ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো :

>>> ক্যাম্পাসকে একটি পিকনিক স্পট হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রবেশমূল্য ৪০টাকা করা। রাবি শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় ২০ টাকা প্রদান করে ঢুকতে পারবে।

>>> ক্যাম্পাসের ১০টি ছাত্র হলের প্রত্যেকটি অন্তত ২০টি করে রুম ‘হোটেল’ হিসেবে ভাড়া দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্র রুম প্রতি রাতের জন্য ৫০০টাকা ভাড়া আদায় করে ক্যাম্পাস লাভবান হতে পারে।

>>> মেডিকেল সেন্টারে যে এম্বুলেন্সগুলো রয়েছে তা দিনের অধিকাংশ সময় ‘অলস’ পড়ে থাকায় অর্থের অপচয় হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘লোকসান’ কমাতে দৈনিক ৮ ঘন্টার জন্য ভাড়া দেয়া যেতে পারে। এতে মানবসেবার মহান চেতনা বাস্তবায়ন হবে।

>>> রাজশাহীর অনেকগুলো লোকাল। স্পর্টক্লাব অনুশীলনের মাঠের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাঠগুলো ভাড়া দিয়ে আয় বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের পালে হাওয়া বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

>>> আমাদের সুইমিংপুলটি মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ সুইমিংপুল হিসবে বিবেচনা করা হয়। সুইমিংপুলটিও ভাড়া দেয়া যেতে পারে।

>>> জিমনেসিয়ামটিতে বর্তমান প্রশাসন প্রচুর টাকা ইনভেস্ট করেছে। অনেক নতুন যন্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু এর আউটপুট কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এটি ভাড়া দিলে বিশ্ববিদ্যালয় ঘাটতি বাজেটের মুখোমুখি হবে না।

>>> গাঁজাসেবন ইতিমধ্যে অনেক দেশে বৈধতা লাভ করেছে। সমসাময়িক পরিস্থিতিতে আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে আমাদের দেশেও গাঁজা সেবনের বৈধতা দেওয়া হবে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আমরা যাতে আমদানি নির্ভরতা প্রশমন করতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রেখে ক্যাম্পাসের দক্ষিণাংশে কৃষি প্রজেক্ট এরিয়ায় একটি গাঁজাচাষ প্রকল্প বাস্তবায়ন যোগ্য। এতে করে নিরক্ষর রিক্সাচালক, কৃষক থেকে শুরু করে টোকাই, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, আমলা, বৈমানিক, রাজনীতিবিদ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মুচি, মজুর, বাবুর্চি, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে “চাকরিরত”দের একটি জনবিচ্ছিন্ন অংশও লাভবান হবেন।

এ প্রকল্প হতে পৃথক পৃথক তিনটি মাত্রায় লাভবান হওয়া সম্ভব যথা : ক) আয় বর্ধন খ) মেয়াদ উত্তীর্ন পণ্য সেবনের বিরূপতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষা গ) বিনামূল্যে খাঁটি পণ্য ভোগের নিশ্চয়তা ( সংরক্ষিত ক্ষমতাবলে)।

আর কোথায় কোথায় ও কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়বর্ধনমূলক কর্মসূচী গ্রহণ করা যেতে পারে, আপনার মন্তব্য দিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের থিংকট্যাংক আরো সমৃদ্ধ করুন।

লেখক : হাবিবুর আর খান
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ