অধিকার ও সত্যের পক্ষে

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য, অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিবাদের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে জেলা প্রশাসকের চাপে ওই প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে অতিরিক্ত ফি ফেরত দিয়েছেন। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে বিবাদের জের ধরে ওই প্রধান শিক্ষক একাধিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ বিজ্ঞান বিভাগে ব্যাবহারিকসহ এক হাজার ৮০০ টাকা আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় এক হাজার ৬৮০ টাকা নেওয়ার কথা। এ বিষয়ে বোর্ড নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত না আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় তুলারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত্ মণ্ডল বলেন, ‘আমরা কোনো বছরই বোর্ড নির্ধারিত অতিরিক্ত ফি নিই না। এ বছর হাইকোর্টেরও নির্দেশনা রয়েছে। সুতরাং বেশি টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

বেসরকারি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করা না হলেও নড়াইল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। বেশি ফি নেওয়া হয়েছে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দুই থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের খবর পাওয়া গেছে। তা ছাড়া অতিরিক্ত ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, পিয়নকে দিয়ে ক্লাস করানো, স্কুলের তহবিল তছরুপসহ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এ বছর নড়াইল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ২১৮ জন এবং অনিয়মিত ৪২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের (নিয়মিত) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার ৯১০ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার ৮২০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আর ৪২ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বাড়তি দুই থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নড়াইল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কোনো কথা হবে না। পাশেই আরেকটি সরকারি স্কুল আছে। সেখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে পরে আসেন। আমরা দুই স্কুল মিলেই করেছি। ওদের কাছ থেকে আমরা ৩০ টাকা বেশি নিয়েছি।’ তবে পরে তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কথা স্বীকার করেন।

নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন হীরক বলেন, ‘তাদের গাইড দেওয়ার খরচ বাবদ আমরা জনপ্রতি ২০ টাকা বেশি নিচ্ছি।’

এ ব্যাপারে নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, ‘নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের সত্যতা পেয়েছি। প্রধান শিক্ষককে অতিরিক্ত ফি ফেরত দিতে বলেছি। টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের হুমকি দিলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ