অধিকার ও সত্যের পক্ষে

৫০ হাজার টাকা নিয়ে চোর ছেড়ে দিলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এক চোরের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত উদ্দীনের বিরুদ্ধে। তবে রিফাত বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, ক্ষতিপূরণ হিসেবে চোরের অভিভাবকের কাছ থেকে কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে। এর পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে এই ঘটনা ঘটে।

হল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে হলে সাইকেল চুরি করতে আসে সুজন নামের এক ব্যক্তি। এসময় হলের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় রিফাত উদ্দীনসহ হল শাখার কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা সেখানে আসে। তারা ওই চোরকে প্রথমে রিফাতের রুমে নিয়ে যায়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা রিফাত ও অন্যরা ওই চোরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। রুম থেকে পরে ওই চোরকে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার এক আত্মীয় এসে ছাত্রলীগের ওই নেতাদের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থাকলেও তাদের তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। ছাত্রলীগ নেতা রিফাতও ওই চোরকে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের হাতে তুলে না দিয়ে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, চোরকে ছেড়ে দেওয়ার পর রিফাত তার এক সহকর্মীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। পরে সে ও তার কয়েকজন বন্ধু এ টাকা নিয়ে চাঁনখারপুল এলাকায় নৈশভোজন করতে যায়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন রিফাত উদ্দীন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ওই চোর আমাদের কাছে হলের কয়েকটি সাইকেল চুরি করার কথা স্বীকার করেছে। যেসব শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরি হয়েছে তারা আমাকে বলেছে তাদের সাইকেল চুরি হয়েছে। তাই তারা চোরকে প্রশাসনের হাতে না দিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে বলে। আমি তাদের কথামতো চোরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে ভাগ করে দিয়েছি। আমার কাছে আরো কিছু টাকা আছে তা হিসেব করে যাদের সাইকেল হারিয়েছে তাদের দিয়ে দিবো।

চোরকে প্রশাসনের হাতে তুলে না দিয়ে টাকা আদায় করা ঠিক হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগেও চোর ধরে প্রশাসনের হাতে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন তাদের থানায় দিয়েছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হয় নি। তাই তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ ড. মো. মুহসীন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। সে (রিফাত) কোনো চোরের কাছ থেকে টাকা নিতে পারে না। তারা চোরকে হল প্রশাসনের কাছে তুলে না দিয়ে যে কাজ করেছে, তা ঠিক করেনি।

রিফাত উদ্দীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী। এ বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে এ ধরনের কাজ সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত।

বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু চোরকে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে না দিয়ে তার থেকে টাকা আদায় করার বিষয়ে আমি জানি না। যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে তারা যে কাজ করেছে তা ঠিক হয় নি। চাঁদাবাজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই ধরনের আরও সংবাদ