অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি টাকার প্রকল্প জলে!

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগত ও ভারী যানবাহনের প্রবেশ বন্ধের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি প্রধান ফটকে নিরাপত্তা চৌকি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগসহ এজন্য বরাদ্দ হয় কয়েকশ’ কোটি টাকা। তবে আর্থিক ব্যয় বাড়লেও বহিরাগত ও ভারী যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ হয়নি এখনো।

শিক্ষার্থীরা জানান, কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে রাত হলেই নিরাপত্তা চৌকি ভেদ করে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে ভারী যানবাহন। কোটা সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে, নিরাপদ সড়কের দাবি, চাকরির বয়স ৩৫ চাইসহ বেশ কয়েকটি আন্দোলনে শাহবাগসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো যখন অবরোধ করা হয় তখন এ পথে যাতায়াতকারী গাড়ীগুলো ঢুকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তাকে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করে। এসব সুযোগে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ছাত্রদের নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র সুযোগ পেলেই ক্যাম্পাসে ছিনতাই চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহিরাগত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের দেয়া নিরাপত্তা চৌকিগুলো কোন কাজে আসছে না। মেট্রোরেলের কাজের কারণে ইতোমধ্যেই অকেজো হয়ে গেছে শাহবাগ পয়েন্টের নিরাপত্তা চৌকিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোট আটটি প্রবেশপথ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বংশাল, চাঁনখারপুল, গুলিস্তান ও হাইকোর্ট সংলগ্ন সড়ক। এসব প্রবেশপথ হয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত যাওয়ার রাস্তাটি কম-বেশি সবাইকে ব্যবহার করতে হয়। চারদিক থেকে উন্মুক্ত ঢাবি ক্যাম্পাসে যেকোন সময় চাইলেই যে কেউ প্রবেশ করতে পারছেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোড, পলাশীর মোড়, ভিসি-চত্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় সন্ধ্যার পর শুরু হয় বাইক রেসিং। ফলে বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।

প্রতি ঘণ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি, মাইক্রোবাস, ভ্যান, পিকআপ ভ্যান, বাইসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব এবং বাসসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার যানবাহন প্রবেশ করে। এছাড়া কয়েক হাজার গাড়ি ক্যাম্পাস থেকে বের হয়। ফলে ক্যাম্পাসের মধ্যে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল, স্যার এ এফ রহমানসহ বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে রাত-দিনে সমানে যানবাহন চলাচল করে।

এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের টিএসসি এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার বহিরাগত যানবাহন চলাচল করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে।

শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জেব্রা ক্রসিং, ওভারবব্রিজ ও আন্ডারপাস না থাকায় শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হন। ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বেপরোয়া গতির মোটরবাইকের যন্ত্রণায়ও অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা। মোটরসাইকেলের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি- ক্যাম্পাসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দুই-এক দিন এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। তারপর আবার আগের মতো শুরু। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং ক্রমাগত দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বহিরাগত ভারী যানবাহনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এখানে যারা আসে তাদের কত শতাংশ শিক্ষার্থী আর কত শতাংশ বহিরাগত তা ভেবে দেখার দরকার আছে। আমরা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সংস্কার কাজের কারণে নিরাপত্তা চৌকিগুলো এখন কিছুটা অগোছালো অবস্থায় আছে। আমরা এটাকে আরও স্থায়ী ও সুন্দর ব্যবস্থার মাধ্যমে বহিরাগত যান চলাচল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করবো।’

একই ধরনের আরও সংবাদ