অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের দখলে স্কুলের খেলার মাঠ

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি এখন ব্যবসায়ী আর ঠিকাদারদের দখলে।

দীর্ঘদিন ধরে মাঠের একটি বড় অংশ দখল করে পাথরের খোয়া, ইউনিব্লক এবং পানির ট্যাংকিসহ বিভিন্ন মালামাল রাখছেন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদাররা। মাঠজুড়ে পাথরের খোয়া আর ব্লক ছড়ানো। সারাদিন মাঠের ভেতর থেকে ট্রাক ও ট্রলি মালামাল আনা-নেওয়া করছে। আশপাশ ময়লা আবর্জনায় ভরা। এতে খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ নিয়ে স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মাঠটি যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে খেলার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

সাবেক খেলোয়াড় মো. ওহিদুজ্জামান ডালিম, কামাল হোসেন তালুকদার, বর্তমান খেলোয়াড় আ. কাদের, মো. আরিফ হোসেন, মো. ত্বহাসহ অনেকই অভিযোগ করেন, সারা মাঠে পাথরের খোয়া এবং ইউনি ব্লক ছড়ানো। তাছাড়া প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য মাঠের ভেতর দিয়ে ট্রাক, ট্রলি চলাচল করায় মাঠে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। এতে মাঠে খেলাধুলা করা কোনোভাবেই সম্ভব না। খালি পায়েতো খেলার সুযোগই নেই। আমরা দ্রুত মাঠটি দখলমুক্ত করার দাবি জানাই।

রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতার আহমেদ গাজী বলেন, আমাদের স্কুলের এই মাঠেই জাতীয় সকল প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে। বর্তমান যে অবস্থা তাতে এটাকে দেখলে এখন আর মাঠ মনে হয় না। ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী যে যেভাবে পারছেন তাদের কাজে ব্যবহার করছেন। বাধা দিয়েও ফেরানো যায় না। মাঠটি দ্রুত সংরক্ষণ করে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে শিশু-কিশোররা বিপথগামী হবে।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, মাঠটি ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা যেভাবে দখল করে আছেন তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। মাঠের ঐতিহ্য নষ্ট করছেন এসব প্রভাবশালী ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা। এটি সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে মাঠ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট করে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই ধরনের আরও সংবাদ