অধিকার ও সত্যের পক্ষে

বাংলাঃ প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি বইয়ের বাইরে থেকে থাকবে

 লুত্ফা বেগম।।

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পাঠ্য বই থেকে একটি অনুচ্ছেদ থাকবে। এ অনুচ্ছেদের অধীনে ২টি (১ ও ২) প্রশ্ন থাকবে।

 প্রশ্ন ১ : অনুচ্ছেদের ভেতর থেকেই সাতটি শব্দ দেওয়া থাকবে। সেখান থেকে পাঁচটির অর্থ লিখতে হবে।

 প্রশ্ন ২ : তিনটি প্রশ্ন থাকবে। ‘ক’ ও ‘খ’ প্রশ্ন দুটি সরাসরি অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত। তবে ‘গ’ প্রশ্নটি কিছুটা ভিন্ন। যেমন ধরো, প্রশ্নে ‘কাঞ্চনমালা ও কাঁকনমালা’ গল্প থেকে রাজপুত্র ও রাখাল বন্ধুবিষয়ক একটি অনুচ্ছেদ দেওয়া হলো। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হতে পারে—‘বন্ধুর জন্য তুমি কী করবে? চারটি বাক্যে লেখো। ’ অথবা, ‘একজন রাজা প্রজাদের প্রতি কিরূপ আচরণ করবেন? এ সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো। ’

আরেকটি অনুচ্ছেদ থাকবে পাঠ্য বইবহির্ভূত।

এর অধীনেও ২টি যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন (ক্রমিক ৩ ও ৪) থাকবে। অনুচ্ছেদটি পাঠ্য বইবহির্ভূত হলেও পাঠ্যসূচির অন্তর্গত গদ্য-পদ্যের সঙ্গে এর ভাবগত সাদৃশ্য থাকে। যেমন—বইয়ের ‘ভাবুক ছেলেটি’ বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুকে নিয়ে লেখা। এর সঙ্গে মিল রেখে কোনো বিজ্ঞানীর (যেমন—আলবার্ট আইনস্টাইন) জন্ম, ছেলেবেলা, লেখাপড়া, বিজ্ঞানী হয়ে ওঠা ও সফলতা নিয়ে অনুচ্ছেদ থাকতে পারে।

 প্রশ্ন ৩ : প্রদত্ত অনুচ্ছেদ থেকে ৬টি শব্দ ও পাশে উত্তর দেওয়া থাকবে। প্রদত্ত শব্দগুলোর অর্থ বুঝে ‘ক’ থেকে ‘ঙ’ পর্যন্ত ৫টি শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। উত্তরপত্রে শুধু ক, খ, গ, ঘ ও ঙ লিখে উপযুক্ত শব্দটি লিখলেই চলবে।

 প্রশ্ন ৪ : অনুচ্ছেদবিষয়ক তিনটি প্রশ্ন (ক, খ ও গ) থাকবে। উত্তর লিখতে হবে ৫ বাক্যে। যদি ‘ক’ প্রশ্নে থাকে—

‘আইনস্টাইন কে ছিলেন? তাঁর ছেলেবেলা সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো। ’

তাহলে উত্তরে আইনস্টাইনের পরিচয় সম্পর্কে একটি বাক্য লিখে পরে বাকি চারটি বাক্য (রোমান সংখ্যার ক্রমিক দিয়ে) লিখবে।

‘খ’ প্রশ্নের উত্তরেও একইভাবে পাঁচটি বাক্যে লিখবে।

‘গ’ প্রশ্নটি একটু ভিন্ন ধাঁচের। যেমন এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হতে পারে—‘আইনস্টাইনের জীবনী থেকে তুমি কী শিখতে পেরেছ? পাঁচটি বাক্যে লেখো। ’

এর উত্তর নিজের মতো করে লিখতে হবে।

স প্রশ্ন ৫ : প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত বাক্যগুলোর দাগ দেওয়া শব্দের/ক্রিয়াপদের ৭টির মধ্যে যেকোনো ৫টির চলিত রূপ লিখতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে উত্তরপত্রে ক, খ, গ, ঘ ও ঙ দিয়ে শুধু উত্তরটি লিখতে হবে।

স প্রশ্ন ৬ : এ বছর (২০১৮) প্রশ্নটি নতুন সংযোজন হয়েছে। প্রশ্নে একটি অনুচ্ছেদ থাকবে। অনুচ্ছেদটি পাঠ্য বই থেকে কিংবা বইয়ের বাইরে থেকে থাকতে পারে। অনুচ্ছেদের আলোকে কে, কী, কোথায়, কিভাবে, কেন, কখন ইত্যাদি নির্দেশনা দিয়ে ৫টি প্রশ্ন তৈরি করতে হবে। অনুচ্ছেদটির কিছু কিছু শব্দের নিচে দাগ দেওয়া থাকতে পারে আবার না-ও থাকতে পারে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘কে’, বস্তুর ক্ষেত্রে ‘কী’, স্থানের ক্ষেত্রে ‘কোথায়’, সময় ও সন-তারিখের ক্ষেত্রে ‘কখন’, কারণ বের করতে ‘কেন’ ও অবস্থা বোঝাতে ‘কিভাবে’ লিখে প্রশ্ন করতে হবে।

স প্রশ্ন ৭ : যুক্তবর্ণগুলো বিভাজন করে বাক্যে প্রয়োগ করে উত্তরপত্রে লিখতে হবে। যেমন :

* ণ্ড = ণ্ + ড — আজ ভীষণ ঠাণ্ডা পড়েছে।

* ত্ন = ৎ + ন-ফলা — তোমার শরীরের যত্ন নিয়ো।

বিভাজনের সময়ে হসন্ত ( ্) চিহ্ন দিতে হবে। আর ‘ফলা’ থাকলে (যেমন : য-ফলা, ব-ফলা, ণ/ন ফলা, ল-ফলা, ম-ফলা, র-ফলা) এই ছয়টি ফলার কোনোটি থাকলে ওপরের দ্বিতীয় উদাহরণটির (ত্ন = ৎ + ন-ফলা) মতো লিখতে হবে। বর্ণ বিভাজনের জন্য ১ ও বাক্য গঠনের জন্য ১, মোট ২ নম্বর থাকবে।

স প্রশ্ন ৮ : ‘বিরাম চিহ্ন’ বসিয়ে অনুচ্ছেদটি আবার উত্তরপত্রে লিখতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি গদ্যের বিরামচিহ্নগুলো ভালো করে খেয়াল করতে হবে।

স প্রশ্ন ৯ : ৭টি বাক্য দেওয়া থাকবে, এগুলো থেকে ৫টি ‘এককথায় প্রকাশ’ লিখতে হবে।

যেমন—প্রশ্নে যদি থাকে ‘(ক) মেধা আছে এমন যে জন’, উত্তর হবে ‘(ক) মেধাবী’

স প্রশ্ন ১০ : প্রশ্নে উল্লিখিত শব্দগুলোর সমার্থক/বিপরীতার্থক শব্দ লিখতে হবে। এ ক্ষেত্রেও মূল শব্দটি লিখে ড্যাশ (—) চিহ্ন দিয়ে পাশে উত্তরটি লিখবে।

স প্রশ্ন ১১ : বইয়ের কবিতার যেকোনো অংশ থেকে ৬-৮টি চরণ থাকবে। পড়ে ৩টি প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে হবে—

‘ক’ প্রশ্নের উত্তরে কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ এবং কবিতাটির কবির নাম জানতে চাওয়া হবে।

‘খ’ প্রশ্নের উত্তরে কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লিখতে হবে।

‘গ’ প্রশ্নটি সরাসরি কবিতাংশ থেকে হয় না। যেমন—‘শব্দদূষণ’ কবিতার দ্বিতীয় অংশের আলোকে ‘গ’ নম্বর প্রশ্ন হতে পারে—‘শব্দদূষণ রোধে আমাদের কী করা উচিত? তিনটি বাক্যে লেখো। ’ উত্তর বুদ্ধি খাটিয়ে লিখবে।

 প্রশ্ন ১২ : একটি ফরম পূরণ করতে বলা হবে। যে ফরমই পূরণ করতে দেওয়া হোক না কেন তোমরা পারবে, কারণ এর নমুনা তোমাদের পাঠ্য বইয়ে আছে।

 প্রশ্ন ১৩ : পরিচিত কারো কাছে ‘চিঠি’ অথবা প্রধান শিক্ষকের কাছে ‘আবেদনপত্র’ বা দরখাস্ত লিখতে বলা হবে। আবেদনপত্রের ক্ষেত্রে প্রশ্নে যে নাম, বিদ্যালয়ের নাম, রোল থাকবে—সেটাই লিখতে হবে। কোন বিষয়ে আবেদন করতে হবে, সেটাও দেওয়া থাকবে।

 প্রশ্ন ১৪ : যেকোনো একটি বিষয়বস্তুর ওপর ২০০ শব্দের মধ্যে একটি রচনা লিখতে হবে। রচনাগুলো সাধারণত বাংলা বইয়ের গদ্য ও পদ্য অনুসারে হয়।

এ ছাড়া কয়েকটি রচনার নাম ও ইঙ্গিত দেওয়া আছে। যেমন—আমাদের দেশ, বাংলাদেশের যেকোনো একটি প্রাণী, প্রিয় ফুল ও প্রিয় খেলা। এগুলো তো পড়বেই। এ ছাড়া গত দুই বছর (২০১৬ ও ২০১৭) প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় যেগুলো এসেছে, সেগুলোও দেখবে। রচনায় ভালো নম্বর পেতে হলে ভূমিকা থেকে উপসংহার পর্যন্ত সব অংশ লিখতে হবে।

প্রশ্ন-৬ এ বছর (২০১৮) নতুন সংযোজন হয়েছে। প্রশ্নে একটি অনুচ্ছেদ থাকবে। অনুচ্ছেদটি পাঠ্য বই থেকে কিংবা বইয়ের বাইরে থেকে থাকতে পারে। অনুচ্ছেদের আলোকে ৫টি প্রশ্ন তৈরি করতে হবে

একই ধরনের আরও সংবাদ