অধিকার ও সত্যের পক্ষে

‘কিডনি গায়েব’ : ব্যাখ্যা দিল বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরার অস্ত্রোপচারের পর কিডনি উধাওয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই রোগীর জন্মগত কিডনি কমপ্লিকেশন (জটিলতা) ছিল। তাছাড়া অপারেশনে রক্তক্ষরণ ও ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ায় বাম কিডনি অপসারণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিন্তু রোগীর কিডনি দুটি নিম্নমুখী ও সংযুক্ত বা জোড়া লাগানো ছিল। যাকে বলা হয় হর্ষ কিডনি, একটা ফেলতে গেলে আরেকটাও বেরিয়ে আসে। যেটা ডাক্তার দুর্ভাগ্যক্রমে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দিয়েছিলেন। কারণ আলট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যানে বিষয়টি ধরা পড়েনি।

সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মিল্টন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম।

ইউরোলজি বিভাগে রোগীর চিকিৎসা অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক রফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা শুধু এ বিষয়টি নয় কোনো বিষয়ে হেলাফেলা করি না। এ ঘটনার পরপরই উচ্চমানের দু’টি তদন্ত কমিটি করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডান পাশের কিডনি অপারেশন করতে গিয়ে বাম পাশের কিডনি ফেলে দেয়া হয়েছে। রোগী রওশন আরার জন্মগতভাবে দু’টি কিডনি জোড়া লাগানো ছিল। দুর্ঘটনাবশত এটা হয়েছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন উপাচার্য স্যারের কাছে জমা দিয়েছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. রফিকুল আলম বলেন, ‘ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল রোগীর স্বজনদের চেক দিয়েছেন কিংবা তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছেন এমন বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অবহিত নয়। এ ধরনের ঘটনায় কিংবা অবহেলায় আমাদের হাসপাতাল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত থাকে তবে শৃঙ্খলা কমিটি অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

কিডনি জটিলতার কারণে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরার অস্ত্রোপচার করেন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান দুলাল।

রফিক শিকদারের অভিযোগ, হাসপাতালের মায়ের অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মায়ের ডান পাশের কিডনিটি কাজ করেছে না। দ্রুত আইসিইউতে নেয়ার কথা বলেন তিনি। তবে তিনি এটাও জানান, বিএসএমএমইউতে আইসিইউ খালি নেই। একদিন পর ইনসাফ আল-বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার হুমায়ুন রশিদ কবীর সেলিম মায়ের কিডনির অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে সিটিস্ক্যান করতে বলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করার পর রিপোর্ট মারফত মায়ের পেটে কিডনির অস্তিত্ব নেই বলে জানতে পারি।

একই ধরনের আরও সংবাদ