অধিকার ও সত্যের পক্ষে

কেন্দুয়ায় অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ফাজিল মাদরাসার গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে নিয়ম বর্হিভূতভাবে ওই মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো মাদরাসায় অধ্যক্ষ না থাকা অবস্থায় ওই মাদরাসায় কর্মরত উপাধ্যক্ষই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা রয়েছে। কিন্তু উপজেলার রোয়াইলবাড়ি মাদরাসার গভর্নিং বডি ওই নীতিমালাকে কোনো রকম তোয়াক্কা না করেই তারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ওই মাদরাসার কর্মরত উপাধ্যক্ষ সাইদুর রহমানকে অধ্যক্ষ না করে তারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই মাদরাসার আরবি প্রভাষক আব্দুস সামাদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ দেন।

এ ছাড়া মাদরাসাটির আরবি প্রভাষক আব্দুস সামাদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই মাদরাসায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর এক অফিস আদেশের মাধ্যমে মাদরাসার উপাধ্যক্ষকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগের নির্দেশ প্রদান করে ৩০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালকে বিষয়টি অবহিত করার কথা বললেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ ওই নির্দেশ অমান্য করে তিনি বহাল তবিয়তেই রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসার উপাধ্যক্ষ সাইদুর রহমান নিয়মানুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু গর্ভনিং বডি উপাধ্যক্ষের সাথে কোনো রকম যোগাযোগ না করেই তার অগোচরে নিয়ম বর্হিভূতভাবে ২০১৭ সালের ২২ জুন মাদরাসার আরবি প্রভাষক আব্দুস সামাদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ দিয়ে দেন। নিয়োগের বিষয়টি অবগত হওয়ার পর উপাধ্যক্ষ সাইদুর রহমান নিয়ম মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য গভর্নিং বডির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ওই মাদরাসার গর্ভনিং বডির কমিটি নেই। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ওই গর্ভনিং বডির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। গর্ভনিং বডি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকেই মাদরাসাটির আয়ের অর্থ ব্যাংকে জমা না রেখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার নিজের কাছে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, এ পর্যন্ত মাদরাসার কোনো হিসাব-নিকাশ কাউকেই দেখানো হয়নি এবং আভ্যন্তরীণ কোনো অডিটও করানো হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গর্ভনিং বডি আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। গর্ভনিং বডি না থাকায় ব্যাংকে লেন-দেন করতে সমস্যা হয়। তাই মাদরাসার অর্থ ব্যাংকে জমা রাখিনি।

মাদরাসার গর্ভনিং বডির সাবেক সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, উপাধ্যক্ষ সাইদুর রহমান অধ্যক্ষ পদে আবেদনকারী হওয়ায় তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে আব্দুস সামাদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে এখনো দায়িত্ব পালন করাটা নিয়ম বর্হিভূত।

মাদরাসার উপাধ্যক্ষ সাইদুর রহমান জানান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশের আলোকে আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

একই ধরনের আরও সংবাদ