অধিকার ও সত্যের পক্ষে

‘এখন আমাদের সার্টিফিকেটেরও দাম আছে’

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও এরাবিকে মাস্টার্সের মান দেয়ায় খুশি লাখ লাখ শিক্ষার্থী। এজন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানাতে আয়োজিত ‘শুকরিয়া মাহফিলে’ তাদের ঢল নামে।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তারা এখানে স্বতস্ফূর্তভাবেই এসেছেন। এই স্বীকৃতি দেয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের সার্টিফিকেটকে আগে যেখানে কোনো মূল্যায়ন করা হতো না সেখানে এখন এই সার্টিফিকেট দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাকরির চেষ্টা করা যাবে এটাকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শুকরিয়া মাহফিলে যোগ দিতে গাজীপুর থেকে এসেছেন আবু রায়হান। কওমি মাদ্রাসার মেশকাত জামাতের এই ছাত্রের সঙ্গে কথা হয় ঢাকাটাইমসের। তিনি জানান, গাজীপুর, টঙ্গীসহ আশপাশের এলাকার প্রতিটি কওমি মাদ্রাসা থেকে আলেম-উলামা ও শিক্ষার্থীরা এসেছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

রায়হান বলেন, ‘কওমি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পেত না। আমাদের চাকরি ছিল মসজিদে কিংবা মাদ্রাসায়। কেউ অন্য কিছু করতে চাইলে তাদের আবার আলাদা পড়াশোনা করা লাগত। অনেকে কম্পিউটারে আরবি টাইপ শিখে প্রেসে কাজ নিত। এছাড়া আমাদের করার তেমন কিছু ছিল না।’

‘আমাদের পড়াশোনার যে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাতে আমরা খুশি। এবার আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেও চাকরি পাবে। ইনশাআল্লাহ্‌ আমিও পাবো।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে শুকরিয়া মাহফিলে অংশ নিতে এসেছে এক ঝাঁক ছাত্র। মাদ্রাসার তাফসির বিভাগের ছাত্র ওমর ফারুক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার বড়ভাই হাফেজ, ইফতা জামাত শেষ করেছেন। ছাত্র পড়াইয়া তার জীবন গেছে। অনেক কষ্ট করে দিন কাটাইছে, আল্লাহই চালাইয়া নিছে। এমন অনেকেই কষ্ট করে জীবন পার করছে। ভালো চাকরি হয় নাই। আমাদের সার্টিফিকেটের এখন একটা দাম দেয়া হচ্ছে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা উপকার। তাই আমরা মাদ্রাসার সবাই আসছি।‘

একই ধরনের আরও সংবাদ