অধিকার ও সত্যের পক্ষে

এমবিবিএস শেষের আগে শিক্ষাজীবনই শেষ

 নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বেসরকারি বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস (ব্যাচেলর অব মেডিসিন ও ব্যাচেলর অব সার্জারি) কোর্সে ভর্তি হয়ে চার থেকে পাঁচ বছর ধরে অধ্যয়নরত ৫১ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পথে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তাদের ভর্তি করার ক্ষেত্রে ‘ভয়ংকর জালিয়াতির’ ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে।

এই শিক্ষার্থীদের একেকজন ২০ লাখ থেকে ২২ লাখ টাকা দিয়ে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়েছিল। পাঁচ বছরের এই কোর্সের শেষ পর্যায়ে এসে আর মাত্র আট দিন পর ১২ জনের এবং আগামী বছর নভেম্বরে ৩৯ জন শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা। কিন্তু দুই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থী ভর্তি করার ক্ষেত্রে জালিয়াতি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিরীক্ষায় ধরা পড়েছে।

বিএমডিসি বলেছে, সম্পূর্ণ প্রতারণার মাধ্যমে রেজাল্ট টেম্পারিং করে কলেজটি ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এসব ছাত্রছাত্রীকে ভর্তি করেছে। প্রতারণার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছে বিএমডিসি। এসংক্রান্ত একটি আদেশ গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন বরাবর এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও রেজিস্ট্রারকে অনুলিপি দেওয়া হয়।

চিঠি পাওয়ার পরের দিন গত বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জালিয়াতিতে ৫১ শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহেদুল হক বসুনিয়া স্বাক্ষরিত আদেশে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়, ‘বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১৯.০৯.২০১৮ ইং তারিখে প্রাপ্ত ২০১৩-২০১৪ ইং শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ১২ জন এবং ২০১৪-২০১৫ ইং শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ৩৯ জন ছাত্র-ছাত্রীর জাতীয় পরীক্ষায় রোল নম্বর, টেস্ট স্কোর, মেরিট স্কোর ও মেরিট পজিশন পরীক্ষা করিয়া দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হইতে প্রকাশিত রেজাল্টের সঙ্গে কোনোই মিল নেই। সম্পূর্ণ প্রতারণার মাধ্যমে রেজাল্ট টেম্পারিং করে উল্লিখিত দুই শিক্ষাবর্ষে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় উল্লিখিত দুই শিক্ষাবর্ষে (২০১৩-২০১৪ এবং ২০১৪-২০১৫) ভর্তিকৃত ছাত্রছাত্রীদের বিএমডিসি হতে কোনো রূপ রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হবে না। ’

প্রশ্ন উঠেছে, ভুয়া নাম, ঠিকানা ও ফলাফল প্রতারণা করে এসব শিক্ষার্থীকে কিভাবে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরকে ভর্তির পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে সাময়িক নিবন্ধন দিয়েছে। ভর্তির দেড় বছরের মধ্যে বিএমডিসির নিবন্ধন গ্রহণের কথা থাকলেও তা ছাড়াই কিভাবে এই শিক্ষার্থীরা চার থেকে পাঁচ বছর ধরে অধ্যয়ন করেছে। তাদের এই ভর্তির পেছনে ওই কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কারা জড়িত, সেই বিষয়ে কোনো তদন্ত হচ্ছে না বলে জানা গেছে। বিষযটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে ওই মেডিক্যাল কলেজ।

আগামী ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন মেডিক্যাল কলেজগুলোর বিভিন্ন পেশাগত পরীক্ষা। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য এই শিক্ষার্থীরা উচ্চ আদালতের কাছে গেছে। প্রতারণার মাধ্যমে ভর্তির ঘটনাটি নিয়ে বিএমডিসিও আদালতে যাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী গতকাল  বলেন, ‘আদালত বলেছেন বিএমডিসির নিবন্ধন সাপেক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের। বিএমডিসির নিবন্ধন ছাড়া আমরা পরীক্ষা কিভাবে গ্রহণ করব। বিএমডিসি আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে এসব শিক্ষার্থীর নিবন্ধন প্রদান করা হবে না জানিয়ে। ’সুত্র কালের কণ্ঠ

একই ধরনের আরও সংবাদ