অধিকার ও সত্যের পক্ষে

উন্নয়নশীল দেশ ও প্রাথমিকে বেতন বৈষম্য

 মোঃ গোলাম মোস্তফা হিরা॥
উন্নয়নশীল দেশ ও প্রাথমিকে বেতন বৈষম্য সৌদি আরবের একজন শিক্ষকের বেতন সাত হাজার ৫০০ রিয়াল। বাংলাদেশী টাকায় যা ১,৬৫০০০/- টাকা। এর বাইরে আছে নতুন ও পুরনো আরো নানারকম ভাতা। এ ছাড়া একজন সৌদি শিক্ষক বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি পান। আল্লাহ না করুন যদি তার বাড়িটি বন্যায় ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে সৌদি সরকার তার অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে কিংবা তার গাড়িটি নষ্ট হয়ে গেলে সেটি মেরামত করার অথবা নতুন একটি কেনার টাকা দেয়।
শুধু সৌদিআরব নয় আমরা বিভিন্ন তথ্য থেকে জেনেছি পৃথিবীর অন্যসব দেশে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদার এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা। সে সব দেশে শিক্ষকদের প্রকৃত দক্ষ করতে এবং পাঠদানে মনোযোগী করতে সকল রকম প্রতিবন্ধকতা দূর করার সব ধরনের কৌশল প্রয়াগ করা হয়। আর সে ফলশ্রুতিতে সেই সব দেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। এদেশের সার্বিক অর্থনীতি এখন উর্ধ্বমূখী।
এই উন্নয়নশীল দেশকে এগিয়ে নেয়ার পেছনে শিক্ষার ভূমিকা যে অগ্রগন্য তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এর পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক সম্প্রদায়। যারা হাজার ও প্রতিকূলতার মাঝেও নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন দেশ আলোকিত করার মহৎ কাজে। যেহেতু দেশ আজ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার মহাসড়কে সমাসীন তাই শিক্ষকদের পন্ডিত মশাইয়ের তকমা দিয়ে পেছনে ফেলে রাখা সত্যিই লজ্জাজনক। এখন শিক্ষকদের তৈরি করতে হবে আন্তর্জাতিক মানের। বাড়াতে হবে প্রশিক্ষণ এবং পরিবর্তন করতে হবে প্রশিক্ষণের কৌশল। শিক্ষকদের দিতে হবে মানসম্মত বেতন ভাতা। তাদের জীবন ও জীবিকার একমাত্র উপায় যেহেতু শিক্ষকতা তাই তাদের অর্থনৈতিক দিকটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেয়া সময়োপযোগী দাবি। সেক্ষেত্রে প্রথমেই তাদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিটি দেশের শিক্ষার ভীত। এর ভীত যত মজবুত সে দেশের শিক্ষার মান তত উন্নত। তাই সর্বপ্রথম প্রাথমিক শিক্ষাকে অগ্রগন্য হিসেবে ধরে এর মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শাখা প্রশাখাগুলোকে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা উচিত প্রথমেই।
বাংলাদেশের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকগণ দীর্ঘদিন যাবত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে সৃষ্ট তিন ধাপ বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছে সরকারের কাছে। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী পালনসহ গত বছর ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন ও করেছে। অনশনে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছিল অতি দ্রুত এই যৌক্তিক বৈষম্য নিরসন করা হবে। প্রায় এক বছর অতিবাহিত হতে চলেছে কিন্তু সে বৈষম্য নিরসন কার্যক্রম এখন কার্যত ফাইল বন্দী। বর্তমান সরকারের মেয়াদ ও শেষ মুহূর্তে। এখন ও এ বিষয়ে কোন আশার আলো দেখেনি বৈষম্যের স্বীকার সহকারী শিক্ষক সম্প্রদায়। তাই এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা। যা কর্মক্ষেত্রে পড়ছে বিরুপ প্রভাব।
প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রসরমান উন্নয়নের প্রধান কাণ্ডারি সহকারী শিক্ষক। যাদের হাতের যাদুতেই আজ প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ দেশ সেরা পুরষ্কারে ভূষিত। তাই এ উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য বৈষম্য নিরসন অতি জরুরী। সেই সাথে শিক্ষকদের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় বেতন প্রদান ও সময়ের দাবি। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় দেশকে দক্ষ হাতে উন্নিত করা কেবল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই পারেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের দাবি পূরণ করতে। তাই শিক্ষকদের তিন ধাপ বেতন বৈষম্য নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে লক্ষ লক্ষ সহকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিনীত নিবেদন করছি। মোঃ গোলাম মোস্তফা হিরা সহকারী শিক্ষক দক্ষিন পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বীরগঞ্জ, দিনাজপুর।
মোঃ গোলাম মোস্তফা হিরা
সহকারী শিক্ষক দক্ষিন পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বীরগঞ্জ, দিনাজপুর।
একই ধরনের আরও সংবাদ