অধিকার ও সত্যের পক্ষে

জীবন বাঁচাতে মানুষের দারে দারে ঘুরছেন শিক্ষার্থী শহীদুল

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলামের (২৩) দুইটি কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। জীবন বাচাঁতে মানুষের দারে দারে ঘুরছেন তিনি। একটি কিডনির ব্যবস্থা হলেও স্থানান্তরের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন। এত টাকা যোগাড় করতে গিয়ে তিনি হতাশায় পড়েছেন। সুহৃদয়বান মানুষের আর্থিক সহযোগিতা পেলে ছেলেটি ফিরে পেতে পারেন নতুন জীবন।

শহিদুল ও তার পরিবার এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল উপজেলার দক্ষির রাণিগাঁও গ্রামের মোফাজ্জল আলীর ছোট ছেলে। সে ২০১০ সালে সন্ন্যাসীভিটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও নাজমুল স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৩ সালে সে ঢাকা ইন্টান্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে শহিদুল তার খালাতো বোনরে সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছরের ৭ এপ্রিল হঠাৎ করে তার দুই পা ফুলে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে চিকিৎসকরা তার দুই কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান। পরে সে কিডনি ফাউন্ডেশনে ভর্তি হয়ে দেড় মাস চিকিৎসা করান। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ইনিস্টিউট অব ডিজেস্ট কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধী রয়েছেন। সেখানে তার সকল পরীক্ষা নিরিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থানের জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন। ভাগ্যক্রমে তার স্ত্রী মোছা. স্মৃতির সঙ্গে কিডনি মিল হওয়ায় শহিদুল তার স্ত্রীর কিডনি গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু এই কিডনি স্থানান্তর ও চিকিৎসা বাবদ তার প্রয়োজন প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা। এছাড়া সে ১৭ মাস ধরে চিকিৎসা বাবদ প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্ত কৃষক বাবার পক্ষে এত টাকা যোগার করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে শহিদুলকে বাঁচাতের তার বন্ধুরা তাকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিকট যাচ্ছে এবং আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করছেন। কিন্তু এই আর্থিক সাহায্য খুবই সামান্য। তাই শহিদুলকে বাঁচাতে সুহ্নদয়বানদের এগিয়ে আসতে সকলে আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার ও বন্ধুরা।

শহিদুলের বাবা মোফাজ্জল আলী বলেন, আমার আট ছেলে মেয়ের মধ্যে শহিদুলই সবার ছোট। সবাই যার যার মতো সংসার করেও আলাদা হয়ে গেছে। এই পর্যন্ত শহিদুলের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। জায়গা-জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছি। আমি কৃষক হওয়ায় আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না তাকে চিকিৎসা করানো। তাই সমাজের সকলের কাছে অনুরোধ করছি আমার ছেলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

অসুস্থ শহিদুল বলেন, চিকিৎসক আমাকে একদমই পানি খেতে মানা করেছেন। সারা দিন রাতে হাফ লিটার পানি খেতে পারি। তাতে পিপাসা মিটে না। আমার অনেক কষ্ট হয়ে। সারা দিন গামছা বিজিয়ে শরীর মুছি। আমি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসর স্বপ্ন দেখি। মানুষের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমি ভালো হয়ে যাবো বলে দুচোখ মুছতে থাকেন।

এ ব্যাপারে প্রফেস্র একাডেমির অধ্যক্ষ মো. এনায়েত আলী বলেন, ছেলেটি মেধাবী শিক্ষার্থী। তার চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবারের সেই সামর্থ নেই। যদি সুহ্নদয়বার মানুষ ছেলেটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন তাহলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্ত সেই অর্থ একেবারেই সামান্য।

একই ধরনের আরও সংবাদ