অধিকার ও সত্যের পক্ষে

এ জীবন আর রাখার ইচ্ছা হচ্ছে না: ছেলে-বউয়ের নির্যাতনে বৃদ্ধা মা

 শিক্ষা বার্তা ডেস্ক ॥

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কড়িআটা গ্রামের মৃত আবু মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম (৪৫) নিজের ছেলে ও ছেলের বউয়ের হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। এ বিষয়ে সন্তানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন মা।

আম্বিয়া জানান, গত ৮ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত করে মেয়েকে বিয়ে দেন। পরে ছেলে রায়হান মিয়াকে (২৫) প্রতিবেশী ডালু মিয়ার মেয়েকে বিয়ে করান।

বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মা আম্বিয়া বেগমকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে নানাভাবে নির্যাতন করত ছেলে রায়হান ও তার বৌ লাবনী বেগম।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকালেও নিজের মাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ছেলে রায়হান ও তার বউ লাবনী। তারা শুধু শারীরিক নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়ননি ঘরের আসবাসপত্র ভাঙচুর করে আঙিনায় ফেলে দেন। এ সময় তারা মা আম্বিয়া বেগমকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

ছেলে ও ছেলের বউয়ের নির্যাতনের স্বীকার মা আম্বিয়া বেগম কান্না জড়ানো কণ্ঠে জানান, নিজের ছেলে ও ছেলের বউয়ের হাতে মার খেয়ে আজ আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুনে এ জীবন আর রাখার ইচ্ছা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, নিজের গর্ভের সন্তান আজ আমাকে যেভাবে মারধর করে আমার ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে। আমি তাদের শাস্তি চাই। আমি থানায় এসেছি ছেলে ও ছেলের বউয়ের শাস্তির দাবিতে। থানায় এ নিয়ে অভিযোগ করতে।

আম্বিয়া বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর নিজের বাবার বাড়ি থেকে জমিজমা বিক্রি করে এনে ঘরবাড়ি করেছি। কষ্ট করে পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছি। সেই ছেলে আজ বউ পেয়ে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। এমন কুলাঙ্গার ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটা আমাদের সচেতন মানুষের দাবি।

পলাশবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই এনামুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুগান্তর

একই ধরনের আরও সংবাদ