অধিকার ও সত্যের পক্ষে

স্ট্যাটাস শেয়ার ও ফোন না ধরায় ঢাবির দুই শিক্ষার্থীকে মারধর

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ফোন রিসিভ না করা ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস শেয়ারের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঢাবির হল শাখা ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার ওই দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মারধরের শিকার দুইজন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তারা মুহসীন হলের বাসিন্দা হাসান আল মানজুর ও এফ রহমান হলের বাসিন্দা নুরুল আফসার। বুধবার দিবাগত রাত ১০-১১টার দিকে দুই হলের গেস্টরুমে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

হাসান আল মানজুরকে মারধরের বিষয়ে জানা যায়, মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাহ ইবনে সোয়াদ তাকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে ফোন করেন। কিন্তু ওয়াশরুমে থাকায় তিনি ফোন রিসিভ করতে পারেনি। পরে শাহ ইবনে সোয়াদ রাগান্বিত হয়ে তার রুমে এসে গালিগালাজ করেন এবং তৎক্ষণাৎ হল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এরপরও মানজুর হলে অবস্থান করায় রাত সাড়ে ১০টায় সোয়াদ তাকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে পুনরায় হল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে সোয়াদ তাকে বেপরোয়াভাবে চড়-থাপ্পড় মারেন। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে সোয়াদ এই ঘটনায় দুঃখও প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া বলেন, আমরা ঘটনার তদন্তে আবাসিক শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অপরদিকে নুরুল আফসারের মারধরের বিষয়ে জানা যায়, বুধবার তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে গণরুম নিয়ে একটি সংবাদের লিংক শেয়ার দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাকিব তাকে গেস্টরুমে ডাকেন। কিন্তু আফসার যেতে দেরি করায় রাকিব প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তাকে জোরপূর্বক গেস্টরুমে নিয়ে আসতে বলেন। পরে তিনি গেস্টরুমে গেলে সংবাদ লিংক শেয়ারের কারণে গালিগালাজ করেন এবং লাঠি দিয়ে তার বুকে আফসারের আঘাত করেন।

মারধরের বিষয়ে রাকিব ঢাকা বি্শ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সামনে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে লাঠি দিয়ে আঘাত করার কথা স্বীকার করেন।

গণরুমে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খান বলেন, আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আবাসিক শিক্ষকদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।

মারধরের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা দুই হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র আরেকজন ছাত্রের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন।

একই ধরনের আরও সংবাদ