অধিকার ও সত্যের পক্ষে

চবিতে ফের ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফের ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক সংগঠন বিজয় ও সিএফসির গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনার শুরু।

দফায় দফায় বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুই পক্ষের এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এসময় একজন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক পুলিশ আটক করেছে। অন্যদিকে দুই হলে ৩জন ছাত্রলীগ কর্মীকে অপর পক্ষের কর্মীরা মারধর করেছে বলে জানা যায়। এই অস্থিতিশীলতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ নিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পাঁচটি হলে তল্লাশি চালায়।

এ সময় হলগুলোতে থেকে কিছু রামদা, পাথর, কাঁচের বোতল ও লাঠিসোঠা উদ্ধার করে পুলিশ। তল্লাশি চালানো হলগুলো শাহ আমানত, সোহরাওয়ার্দী, আলাওল, এএফ রহমান ও শহীদ আব্দুর রব হল। সংঘর্ষে জড়ানো দুটি গ্রুপই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিএফসি গ্রুপের কয়েকজন কর্মী সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে আসতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে অবস্থান নিয়ে থাকা বিজয় গ্রুপের কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়।

সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা তখন আমানত হলের উপর থেকে বিজয় গ্রুপের কর্মীদের উপর ইট পাথর ছোড়তে থাকে। এসময় বিজয় গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর জীবনকে পুলিশ আটক করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পরে আব্দুর রব হলের বিজয় গ্রুপের কর্মী আবির ও আকতারকে নামের দুইজনকে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা মারধর করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। অন্যদিকে এএফ রহমান হলে সিএফসি গ্রুপের কর্মী ইয়াসিন রুবেল নামের একজনকে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা মারধর করে।

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা করছে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে একই কমিটির সহ-সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা জামান নূর বলেন, বুধবারের ঘটনার পর সব শান্ত ছিল। কিন্তু আজ দুপুরের দিকে ওদের কিছু কর্মী উসকানি দিয়ে আবার ঝামেলার সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাটহাজারী সার্কেল আবদুল্লাহ আল মাসুম জানান, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, পাঁচটি হলে তল্লাশি চালিয়ে কিছু রামদা, লাঠিসোঠা, কাচের বোতল ও পাথর পাওয়া গেছে। তল্লাশির উদ্দেশ্য ছিল বহিরাগত ও অছাত্র হলে অবস্থান করছে কিনা। তল্লাশির সময় কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশকে বলা হয়েছে কেউ বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

উল্লেখ্য, বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়। সংঘর্ষে জড়ানো বিজয় গ্রুপের নেতৃেত্ব আছেন চবি ছাত্রলীগর বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন ও সিএফসি গ্রুপের নেতৃত্বে একই কমিটির সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল।

একই ধরনের আরও সংবাদ