অধিকার ও সত্যের পক্ষে

মেডিকেলে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

২০১৮ সালে প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সার্বিক ফলাফল খারাপ। তা সত্বেও ৩ কলেজ থেকে মাত্র ৩ জন জিপিএ-৫ পাওয়ার অনন্য কৃতিত্ব দেখায়। কাকতালীয়ভাবে ওই ৩ কৃতি শিক্ষার্থীই হতদরিদ্র ঘরের সন্তান। এদের মধ্যে উপজেলার সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দরিদ্র শিক্ষার্থী সামসুল ইসলামের বরিশাল মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। সামসুলের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকা নম্বর-১৭৫১।

তবে বরিশাল মেডিকেলে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে সামসুল ইসলামের ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে সামসুল এসএসসিতেও উপজেলার চিথলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এরপর চিথলিয়ার ঐতিহ্যবাহী সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একমাত্র গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার অনন্য কৃতিত্ব দেখায় সে। সে মোট ১৩০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ১১১৩।

সামসুল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর আতিয়ার রহমানের ছেলে। মায়ের নাম রকেলা খাতুন। ২ বোন ও ১ ভাই ৩ জনের মধ্যে সামছুল দ্বিতীয়।

সাগরখালী আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম বলেন, সামসুলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে গিয়ে তার দিনমজুর পিতাকে পরিবার চালাতে কতদিন যে ৩ বেলা খাবার খায়নি তার হিসেব নেই। কোন কোনদিন তাদের উপোসও থাকতে হয়েছে বলেও শুনেছি।

অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম আরো বলেন, সামছুল যখন তাদের কলেজে ভর্তি হয় তখন তার দরিদ্রের বিষয়টি জানার পর তার বেতন প্রাইভেট পড়া সব ফ্রি করে দিয়েছিলাম। মেডিকেলে ভর্তি কোচিং করার জন্য নিজে থেকে পাঁচ হাজার ও শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে ৫ হাজার মোট ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য চলতি বছরের গত ৩০ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ১৭ পৃষ্ঠায় ৫ কলামে ‘ঢাবিতে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছেনা দরিদ্র নাজমুল’ শিরোনামে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর ব্যাপকহারে সেটি ভাইরাল হয়ে পড়লে দেশ ও বিদেশের ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে দরিদ্রের সাথে লড়াই করে এগিয়ে চলা অদম্য মেধাবী নাজমুল হুসাইনের সহযোগীতায় হাত বাড়ান।

একই ধরনের আরও সংবাদ