অধিকার ও সত্যের পক্ষে

তিন বছরেও শেষ হয়নি এমএম কলেজের ছাত্রাবাস নির্মাণ

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ হাজার জন হোস্টেলে থাকতে পারেন। এ সংকট নিরসনে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু সেই কাজে ধীরগতির কারণে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে দুটি ছাত্রাবাস নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ গত মাসে একটি ছাত্রাবাস হস্তান্তর করা হলেও অপরটির কাজ এখনো চলছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ জুন একটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রথমে চারতলা বিশিষ্ট ভবনের কার্যাদেশ দেয়া হলেও পরে পাঁচতলা করার সিদ্ধান্ত হয়। ছাত্রাবাস নির্মাণের কার্যাদেশ পায় মেসার্স ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন। আর ছাত্রীনিবাসের কার্যাদেশ পায় এএমএসআই জয়েন্ট ভেঞ্চার। মোট ব্যয় ধরা হয় সাড়ে ১১ কোটি টাকা।

কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১৮ জুন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারার কারণে জানতে চাইলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এএমএসআই জয়েন্ট ভেঞ্চারের স্বত্বাধিকারী শরিফুল ইসলাম বলেন, চারতলার কার্যাদেশ দেয়ার পর একতলা সম্প্রসারণ করা হলে সময় বৃদ্ধি করা হয়নি। এ কারণে কাজ শেষ করতে পারিনি। তার পরও গত ১১ সেপ্টেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন হস্তান্তর করেছি।

একই অজুহাত দেন অপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাওয়াল কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি জিয়াউল হাসান হ্যাপি। তবে ডিসেম্বরের শুরুতে শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ভবন নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মুত্তাকিন জানান, গত মাসে একটির কাজ শেষ হয়েছে। বাকিটার কাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই কথা বলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।

ছাত্রাবাস সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে এমএম কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী রুমা বিশ্বাস বলেন, কলেজের আবাসন সুবিধা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এজন্য তদবির থাকতে হয়। আবার যারা হোস্টেলে সিট পেয়েছে, তারাও ভালো নেই। কারণ ভবনগুলো সেকেলে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তালেব মিয়া বলেন, একটি ছাত্রাবাস বুঝে পেয়েছি। অপরটির কাজ শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই ছাত্রাবাস দুটি উদ্বোধন করা হবে।

একই ধরনের আরও সংবাদ