অধিকার ও সত্যের পক্ষে

গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে চাচা-চাচীসহ গ্রেফতার ৩

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ১০ মাস আগে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত শিশুর চাচা, চাচী ও চাচাতো ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- চাচা মোর্শেদ আলী (৪০), চাচী সোনালী বেগম (৩৪) ও চাচাতো ভাই সাকিব হাসান (১৬)।

রোববার রাতে উপজেলা বিলসা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে শাকিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার শাকিবের মা সোনালী বেগম ও বাবা মোর্শেদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত শিশুটির বাবার করা মামলার প্রেক্ষিতে নাজমা, নাইম, নাজমুল, বাদল, শহিদুলসহ ছয়জনকে ইতিপূর্বে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা মঙ্গলবার থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

ওসি সেলিম জানান, ২০ ডিসেম্বর গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের বিলশা গ্রামের খাদিজা (৭) নিখোঁজ হয়। ২২ ডিসেম্বর বাড়ির পাশে একটি দিঘিতে খাদিজার বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় খাদিজার বাবা প্রতিবেশীদের আসামি করে একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা করেন। পরে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকীসহ সঙ্গীয় ফোর্সরা গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার বিলশা গ্রাম থেকে শাকিবকে গ্রেফতার করে। কারণ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ওই পরিবারটির কথা-বার্তা ও আচরণ পুলিশের সন্দেহ হয়। এর ফলে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়।

শাকিবের দেয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে ওসি বলেন, গেল বছর ২০ ডিসেম্বর দুপুরে শাকিবের ঘরে শিশু খাদিজা টেলিভিশন দেখতে গেলে শাকিব গামছা দিয়ে খাদিজার মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি তার মা সোনালী বেগমকে জানালে তিনি স্বামী মোর্শেদ ও ভাসুর মিলনকে জানান। এরপর মোর্শেদের পরিকল্পনায় খাদিজার মরদেহটি বস্তায় ভরে খাটের নিচে দুইদিন রেখে দেয়। সুযোগ বুঝে ২২ ডিসেম্বর রাত ২টার সময় তারা চারজন বস্তাবন্দি মরদেহটি পাশের দীঘিতে ফেলে দেয়।

সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর খাদিজার বাবা প্রতিবেশীর নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে জানান ওসি সেলিম রেজা।

একই ধরনের আরও সংবাদ