অধিকার ও সত্যের পক্ষে

মেহেরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে মাসুদ রানা নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাসুদ স্থানীয় ধলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আগামি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিবে। সে কুতুবুপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। এ ঘটনায় মেহেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মাসুদ আত্মগোপনে রয়েছে।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, গত রমজানের ঈদের পর স্কুল যাওয়ার পথে অভিযুক্ত মাসুদ রানা কৌশলে দ্বিতীয় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে পাশের একটি মাঠে নিয়ে ফুসলিয়ে দুজনকে ধর্ষন করে। ধর্ষনের পর তারা চিৎকার করলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করে। ঘটনার পর থেকেই মাসুদ তাদের ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অব্যহত হুমকি দিতে থাকে। মেয়ে দুটি কয়েকদিন আগে শারিরিকভাবে অসুস্থ হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে ধর্ষিতা দুই ছাত্রীর অভিভাবকরা মাসুদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদেরও নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ধর্ষিতা দুই ছাত্রীকে পুলিশ সোমবার রাতে থানা হেফাজতে নেয়। পুলিশ যাওয়ার খবর পেয়ে মাসুদসহ তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে এক ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করে। মামলার পর পুলিশ ছাত্রী দুটিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয় ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর জন্য। ডাক্তারি পরীক্ষার মেয়ে দুটিকে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষিত এক ছাত্রীর বাবা ও মামলার বাদি জানান, ৫-৬ দিন ধরে তার মেয়ে পরিবারের লোকজনকে জানায় তার প্রসাবনালীতে যন্ত্রণা করছে। পরে আমরা ধর্ষনের বিষয়টি জানতে পেরে মাসুদের সঙ্গে কথা বলতে যায়। মাসুদ তখনও বিষয়টি ধামাপাচা দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়।

কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান মামলা হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, তার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাসুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ ধরণের বখাটেদের বিচার না হলে সমাজে কোনো অভিভাবক সম্মানের ভয়ে তাদের মেয়েদের বাড়ির বাইরে বের হতে দিবে না।

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আফরাজুল হক বলেন, অভিযুক্ত মাসুদ রানা বখাটে প্রকৃতির ছেলে। তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষনের ঘটনায় তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসান আলী জানান, যেহেতু মামলা হয়েছে তাই মেয়ে দুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যাবে। আসামি মাসুদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

একই ধরনের আরও সংবাদ