অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শিক্ষকদের মর্যাদা বেশি, বেতন কম কেন?

 মুন্নাফ হোসেন ||

শিক্ষক জাতি গড়ার কারিগর। শিক্ষকরা নিরলস পরিশ্রম করে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খাঁটি সোনায় পরিণত করেন। একজন ছাত্রকে বুঝিয়ে পড়া শিখানো আর কড়া রৌদ্রের মাঝে মাটিকাটার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। একজন শিক্ষক যখন রাস্তা দিয়ে পথ চলেন, ছোটবড় সকলে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সালাম দেন। এটি শিক্ষকদের অনেক বড় পাওয়া। কিন্তু ঐ স্যার হয়তো তখনও হিসাব করছেন যে সামান্য বেতনে বাকিমাস চলবে তো!

পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে শিক্ষকদের উচ্চ বেতন ও ভিআইপির মর্যাদা দেওয়া হয়। অথচ প্রিয় মানুষ বঙ্গবন্ধুর সোনায় বাংলায় কেন এত বেতন বৈষম্য? আজ শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে শিক্ষকদের এমন অবস্থা হয়তো থাকতো না। উচ্চ মাধ্যমিক একজন প্রভাষকের বেতন ২২,০০০ টাকা, একজন মাধ্যমিক শিক্ষকের বেতন ১২,৫০০ টাকা, একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন ১৫,০০০ টাকা। এত কম বেতনের একজন অভাবী শিক্ষকের নিকট যদিও উত্তম সেবা পাওয়ার কথা নয়, তবুও এই অনাহারী শিক্ষকেরা তাদের শেষ শক্তি দিয়ে হলেও জাতিকে আলোকিত করছে।

বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে বাজারে টিকা মুশকিল। একজন শিক্ষক যখন বাজারের থলে নিয়ে বাড়ী হতে রওনা দেন, তার ছোট্র সন্তানটি হয়তো বায়না ধরে কিছু আনার জন্য। কিন্তু শিক্ষকের পকেটে যে টাকা নেই তা হয়তো ঐ ছোট্র শিশুটির বুঝে আসে না। তবুও শিক্ষক মহোদয় টলতে টলতে পথ হাটেন।বাজারে গিয়ে চরম দামের কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কেনাও হয় না। মাছের বাজারের সামনে দিয়ে পথ চলার সময় বড় মাছটির দিকে তাকালেও দাম হাঁকানোর সাহস হয় না। অতৃপ্ত বাসনা নিয়েই বাড়ী ফিরতে হয়।

এতো গেল বাজারের ঘটনা। ছেলেমেয়েদের ভাল স্কুলে পড়ানো বর্তমানে অনেক কষ্টের। ছাপোষা শিক্ষকদের পক্ষে ভালমানের স্কুলে পড়ানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া শহরে বাড়ীভাড়াও আকাশচুম্বী। শিক্ষকদের যেন নুন আনতে পান্তা ফুরায়।

শিক্ষাবান্ধব সরকার একটু সুদৃষ্টি দিলে হয়তো এমন কষ্ট হতো না। কিন্তু উচ্চ মহলের কানে কি শিক্ষকদের হাহাকারের কথা পৌছাবে?

তবুও নিরলসভাবে শিক্ষকবৃন্দ আলো ছড়িয়ে যাবে। কেননা শিক্ষকসমাজ কখনো নৈতিকতার প্রশ্নে পিছপা হবে না। কেননা শিক্ষকরা বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণ মনে লালন করে এগিয়ে যাবে অনন্তকাল। শিক্ষকসমাজ যেন দুবেলা দুমুঠো ডালভাত খেয়ে সন্তানদের নিয়ে সুখে থাকতে পারে, এজন্য সরকারের উচ্চমহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মুন্নাফ হোসেন: শিক্ষক, মমিনপুর, ধনবাড়ী, টাংগাইল।

একই ধরনের আরও সংবাদ