অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ঠাকুরগাঁও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বিবাহিতরা

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতি এখন অছাত্র, ব্যবসায়ী আর বিবাহিতদের দখলে। জেলা কমিটির সভাপতি ও কয়েকজন সহ-সভাপতি, কয়েকটি ইউনিটের বেশ কয়েকজন নেতা বিবাহিত।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালের ২০ জুলাই এক বছর মেয়াদী জেলা ছাত্রলীগ কমিটি গঠিত হয়েছে। এরপর আর সম্মেলন হয়নি।

এই কমিটির সভাপতি মাহাবুর হোসেন রনি, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মানিক এক সন্তানের জনক। এছাড়া আরও কয়েকজন সহ-সভাপতি বিবাহিত বলে ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গঠনতন্ত্রে বিবাহিতদের ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকার বিধান নেই। তবে খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি মাহাবুব হেসেন রনি, সিনিয়র সহ-সভাপতি কুরবান আলী, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মানিক, লিয়নসহ আরও কয়েকজন নেতা বিবাহিত। তাদের মধ্যে অনেকেরই সন্তানও রয়েছে। এছাড়া যাদের ছাত্রত্ব নেই তারাই বেশির ভাগ কমিটিতে স্থান পেয়েছে। ফলে ছাত্রলীগের গৌরব ইতিহাস সম্পর্কে অনেকের অজানা। বিবাহিত ও অছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব থাকায় প্রকৃত ছাত্ররা বঞ্চিত হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহাবুব হোসেন রনি বলেন, বিয়ে করলে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকতে পারবে না এমন কোনো বিধি-নিষেধ আমার জানা নেই। তাছাড়া কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে কোন প্রকার লিখিত বার্তা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কমিটিতে বিবাহিতদের স্থান নেই। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ও বিবাহিত থাকলে অতি শীঘ্রই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

২০১৭ সালের ১৩ জুলাই সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতির ও সাধারণ সম্পাদকের ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটামের পরও ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের পদধারী নেতারা বিবাহিত হলেও একজন ছাড়া কেউ পদত্যাগ করেননি। এর মধ্যে অনেকের ছাত্রজীবন শেষ হয়ে গেলেও তারা ছাত্রলীগের পদ বহাল রেখেছেন। এ নিয়ে প্রকৃত তরুণ ছাত্র নেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

একই ধরনের আরও সংবাদ