অধিকার ও সত্যের পক্ষে

বিশ্বে ক্যানসারের শিকার এক কোটি!

 নিউজ ডেস্ক।।

সংখ্যাটা প্রায় এক কোটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার’-এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যে ‘গতিতে’ কর্কটরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে শুধু এই বছরেই ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলবে প্রায় এক কোটি।

সংস্থার আনুমানিক হিসেব, ২০১৮ সালেই ১ কোটি ৮১ লক্ষ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন। এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৬ লক্ষ। রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে এই শতকের শেষে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হবে ক্যানসারেই। মানুষের জীবনকালই কমে যাবে এ রোগের ‘মৃত্যুদণ্ডে’। ১৮৫টি দেশের থেকে অন্তত ৩৬ ধরনের ক্যানসার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাতেই দেখা গিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতি পাঁচ জন পুরুষের মধ্যে এক জন এবং প্রতি ছ’জন মহিলার মধ্যে এক জনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে আবার, আট জন পুরুষের মধ্যে এক জন ও ১১ জন মহিলার মধ্যে এক জন ক্যানসারের কাছে হার মানতে বাধ্য হবেন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে ক্যানসারে মৃত্যুর মোট সংখ্যাটা বছরে কোটি ছোঁয়ার অন্য একটি কারণও দর্শিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট। তা হল— গোটা পৃথিবীর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যত বেশি মানুষ, ক্যানসার আক্রান্তও তত বেশি।

তবে ক্যানসার সচেতন দেশগুলোয় ছবিটা অনেকটাই অন্য রকম হয়েছে গত কয়েক বছরে। রিপোর্টে যেমন বলা হয়েছে, উত্তর ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বেশ কমেছে। সৌজন্যে তাদের ধূমপান বিরোধী প্রচার ও মানুষের সচেতনতা। কিন্তু ঠিক এর উল্টো কারণে, অর্থাৎ সচেতনতার অভাবে, ক্যানসারে প্রথম স্থানে রয়েছে এশিয়া, বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষের ঠিকানা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আগের রিপোর্টেই বলা হয়, ক্যানসারে মৃত্যু ছেলেদের মধ্যে বেশি। ছেলেদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি হয় ফুসফুসে ক্যানসার। তবে এই ক্যানসারের সংখ্যা মেয়েদের মধ্যেও বাড়ছে। এর কারণ অবশ্যই ধূমপানের ঝোঁক, বক্তব্য গবেষকদের। ব্রিটেনের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ জর্জ বাটারওয়ার্থ যেমন বলছেন, ‘‘আমেরিকা, ইউরোপের পাশাপাশি এখন অল্প আয়ের দেশগুলোতেও মেয়েদের ধূমপানের প্রবণতা বেড়েছে। বাড়ছে ফুসফুসের ক্যানসারও।’’

একই ধরনের আরও সংবাদ