অধিকার ও সত্যের পক্ষে

মহান আল্লাহ্র পরীক্ষা: ভূমিকম্প

 অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

আজ সকাল পৌনে এগারটার দিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা মৃদু ভূ-কম্পনে দুলে উঠল। ভূমিকম্প এক মহা দূর্যোগ ও পরীক্ষা। এখনও বিজ্ঞানীরা ভূ-কম্পনের পূর্বাভাস দিতে পারেন না। যদিও ক্ষতির পরিমাণ হিসেব করেন মাত্র, কারণও বলতে পারেন সামান্য।
মানুষের কর্মকুশলতা পরীক্ষার জন্য মহান আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন ‘জীবন ও মৃত্যু’। সুরা মুলকের সূচনায় আছে ‘খালাকাল মাওতা ওয়াল হায়াতা…’ অর্থাৎ জীবনের আগেই সৃষ্টি করা হয়েছে ‘মৃত্যু’। আল্লাহ্ মানষকে পরীক্ষা করেন নানান উপায়ে এবং মানুষ অনিবার্য কিয়ামতের দিকে ধাবিত হচ্ছে যা এক মহাপ্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প
“পৃথিবী ভীষণভাবে উঠিবে কাঁপিয়া
ভিতরের বোঝা দেবে বের করিয়া।
মানুষ বলিবে তখন কী হলো ইহার
ব্যক্ত করিবে খবর যাবতীয় তার”।।
(কাব্যানুবাদ, যিলযাল: ০১-০৪)
পবিত্র কুরআনে ‘ভূমিকম্প’ (ঊধৎঃযয়ঁধশব) নামের সুরা হলো ‘যিলযাল’। এবিদ্যাকে ‘ইলমুয-যিলযাল’ বলে। ‘যিলযাল’কে ইংরেজিতে বলা হয়েছে পড়হাঁষংরড়হ এবং এর ভয়াবহতা বোঝাতে যিবহ ঃযব ঊধৎঃয রং ংযধশবহ ঃড় (ঁঃসড়ংঃ) পড়হাঁষংরড়হ বলা হয়েছে।
ভূমিকম্প ও সমূদ্র তলদেশস্থ ভূ-কম্পন জনিত প্রভাব ‘সুনামী’ ও এর প্রভাবে ভয়াবহতম জলোচ্ছাস মহান আল্লাহ্র এক মহাপরীক্ষা। ঈমানি শক্তি ও তওবার চেতনায় ভূমিকম্প ও সুনামী থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা আমাদের একান্ত কর্তব্য। বুয়টেরে গবষেকদরে ভূ-কম্পন মানচত্রিে দখো যায়, বাংলাদশেরে ৪৩% এলাকা ভূমকিম্পরে উচ্চমাত্রার ঝুঁকতিে (জোন-১), ৪১% এলাকা মধ্যম (জোন-২) এবং ১৬% এলাকা নম্নি ঝুঁকতিে (জোন-৩) রয়ছে।ে অন্য এক তথ্যে পাওয়া যায়- বাংলাদেশ উচ্চ ভূমিকম্পনশীল অঞ্চলসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং তা তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত। যথা- উত্তর ও পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ বৃহত্তর সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার অধিকাংশ এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর বরেন্দ্র অঞ্চল ও মধুপুরের দিকে প্রসারিত পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকার কিছু অংশ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। এছাড়া দেশের অন্যান্য অংশ তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কমঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে যদি বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ০.০৮ বা ০.১০ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে সুনামী বা জলোচ্ছাসে লন্ডভন্ড হয়ে যাবে ‘আইলা-সিডোর’ বিধ্বস্ত খুলনা, বরিশাল এবং নোনাজলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে ফরিদপুর, বগুড়া ও ঢাকা-ময়মনসিংহ এলাকা।
প্রায়ই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠছে বাংলাদেশ। আমাদের দূর্যোগ মোকাবেলার যে সামর্থ্য তাতে উচ্চমাত্রার ভূ-কম্পনে এদেশের কী হবে তা মহান আল্লাহ্ই ভালো জানেন। কেননা, শুধু ২০০২ সালে চট্টগ্রামে ৪০ বার ভূমিকম্প ঐ ভয়াবহতার ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে ইতিহাসে পাওয়া যায়Ñ ২০০৫ সালের ২৪ মার্চ ইন্দেনেশিয়ার সুমাত্রায় ভুমিকম্পে ১৩ লাখ, ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্দেনেশিয়ার আচেহ্ প্রদেশের ভুমিকম্প ও সুনামীতে ০২ লাখ ২৬ হাজার, ১৯৬০ সালের ২২ মে চিলির ভূমিকম্পে প্রাণ হারায় পাঁচ হাজার বনি আদম।
ভুমিকম্পের অপর নাম কিয়ামত। এর ক্ষতি ও ভয়াবহ পরিনতির জন্য দায়ী মানুষের অপকর্ম ও অনাচার। ধর্মোদ্রোহীদেরকে শাস্তি দান প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ বলেন ‘…. মিনহুম্ মান্ খাসাফনা বিহিল আরদা’ অর্থাৎ “…. তাদের কাউকে আমি মাটির নীচে গেড়ে দিয়েছি” (আনকাবুত: ৪০)। তাই সবার মহান আল্লাহ্কেই ভয় করা উচিত। মহান আল্লাহ্ বলেন “হে মানুষ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো। কিয়ামতের ভূমিকম্প এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। যে দিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে… ” (হজ্ব: ০১)। সুনামী ও এর প্রভাব জলোচ্ছাসে যেমন সব এলেমেলো হয়ে যায়, কিয়ামতের ভয়াবহতা তার চেয়ে মারাত্মক। মহান আল্লাহ্ বলেন “….. প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে তা উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পর্যবসিত হবে…. (ওয়াকিয়া: ০৪Ñ০৬)।
প্রাকৃতিক নানান বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ মানুষের অপকর্ম। এগুলোর পথধরেই মানুষ কিয়ামতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এপ্রসঙ্গে সতর্ক করে প্রিয়নবী (স.) বলেন “…. জাতির নিকৃষ্ট ব্যক্তি তাদের নেতা হবে, ক্ষতির ভয়ে মানুষকে সম্মান করা হবে…. সে সময তোমরা অপেক্ষা করো: রক্তিম বর্ণের ঝড়ের (এসিড বৃষ্টি) ভূ-কম্পনের, ভূমিধ্বসের, রূপ বিকৃতির (লিঙ্গ পরিবর্তন) পাথর বৃষ্টির এবং সূতো ছেড়া (তাসবিহ্) দানার ন্যায় একটির পর একটি নিদর্শনসমুহের জন্য” (তিরমিযি)।
ভূ-কম্পনরে মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদরেকে সর্তক করনে যাতে করে তারা অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহর পথে ফরিে আস।ে মহান আল্লাহ বলনে “বল: আল্লাহ তোমাদরে পায়রে নীচ থকেে আযাব পাঠাতে সক্ষমৃ. (আনআম: ৬৫)। বুখারি শরফিে জাবরি ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলনে: যখন, “তোমাদরে পায়রে নীচ থকেে আযাব পাঠাতে সক্ষম” নাযলি হলো, তখন রাসুল (স.) বললনে “আমি তোমার সম্মূখ হতে আশ্রয় র্প্রাথনা করছ”ি (বুখার)ি। শায়খ ইস্পাহানি আয়াতরে তাফসরি করছেনে “তোমাদরে পায়রে নীচ থকেে আযাব পাঠাতে সক্ষম” যার ব্যাখ্যা হলো, ভুমকিম্প।আল্লামা ইবনু কাইউম (রহ.) বলনে “মহান আল্লাহ মাঝে মাঝে পৃথবিীকে জীবন্ত হয়ে ওঠার অনুমতি দনে, যার ফলে তখন বড় ধরনরে ভূমকিম্প হয়; এটা মানুষগুলোকে ভীত কর,ে তারা মহান আল্লাহর নকিট তওবা করৃেঅনুতপ্ত হয়”।অন্যদকিে যখন ভূমকিম্প হয় অথবা র্সূযগ্রহণ হয়, ঝড়ো বাতাস বা বন্যা হয়, তখন মানুষরে উচতি মহান আল্লাহর সমীপে দ্রুত তওবা করা, যভোবে রাসুল (স.) র্সূয গ্রহণ দখেলে বলতনে “যদি তুমি এরকম কছিু দখেে থাক, তখন দ্রুততার সঙ্গে মহান আল্লাহকে স্মরণ কর, তাঁর নকিট ক্ষমা র্প্রাথনা কর” (বুখার)ি।
আমাদরে উচতি, আন্তরকিভাবে সব সময় তওবা করা।মহান আল্লাহ বলনে “মানুষগুলো কি এতই নর্ভিয় হয়ে গছেে (মনে কর)ে আমার আযাব (নঝিুম) রাতে তাদরে কাছে আসবে না, যখন তারা (গভীর) ঘুমে (বভিোর হয়)ে থাকব!ে অথবা জনপদরে মানুষগুলো কি নর্ভিয় হয়ে ধরে নয়িছেে য,ে আমার আযাব তাদরে উপর মধ্য দুপুরে এসে পড়বে না- তখন তারা খলে-তামাশায় মত্ত থাকবৃে” (আল আ’রাফ: ৯৭-৯৯)। মহান আল্লাহ আরো বলনে “যদি সইে জনপদরে মানুষগুলো ঈমান আনতো এবং (আল্লাহক)ে ভয় করতো, তাহলে আমি তাদরে উপর আসমান-যমীনরে যাবতীয় বরকতরে দুয়ার খুলে দতিামৃ”। (আ’রাফ: ৯৬)।
বস্তুতঃ বিশাল এ পৃথিবীতে আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামিনের বিপুল অনুগ্রহ ভান্ডার শুধু মানুষেরই কল্যাণের জন্য। কিন্তু অকৃতজ্ঞ মানুষের অপকর্মে প্রকৃতিতে ভূমিকম্প-সুনামীর মতো ভয়বহ বহুমুখী বিপর্যয় নেমে আসে। পবিত্র কুরআনের ভাষায়
“ভূমিতে ও পানিতে সব জায়গায়,
লোকজন কুকাজে অশান্তি ছড়ায়।
যেরূপ কাজ ওরা থাকে করিতে,
আল্লাহ্ চান তার শাস্তি দিতে…….”
(কাব্যানুবাদ, রূম: ৪১)।
পরিশেষে মহান আল্লাহ্র দরবারে মুনাজাত, তিনি যেন বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর সবাইকে ভূমিকম্প-সুনামীর মতো ভয়বহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন এবং ঈমানি মৃত্যু নসিব করেন। আমিন।।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ কাপাসিয়া গাজীপুর 

একই ধরনের আরও সংবাদ