অধিকার ও সত্যের পক্ষে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু দেখলেই মতামত দেবেন না

 কলকাতা প্রতিনিধি ||

সাইবার দুনিয়াকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ এক সাথে অনেক কিছু করতে পারে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ একসাথে হাত মিলালে আমরা সাইবার দুনিয়াকে অনেক বেশি সুরক্ষিত করতে পারি।

আজ বুধবার কলকাতায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। কলকাতায় বণিক সভা অ্যাসোচামের আয়োজিত দিনব্যাপী এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানে ইনফরমেশন, কমিউনিকেশন এবং টেকনোলজি বিষয়ে আলোচনা হয়। পশ্চিমবঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ব্রাত্য বসু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি পলক পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ব্রাত্য এবং বিভাগীয় সচিব দেবশীষ সেনের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন।

পশ্চিমবঙ্গের এক সূত্র জানান, যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ, আইটি পার্ক স্থাপন এবং সফটওয়ার এক্সপোর্ট কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

পলক বলেন, আমরা দুই বাংলার মেধাবী মানুষদের নিয়ে একটি সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টদের দল গঠন করার কথা ভাবছি। দুই বাংলার ভাষা এক, সংস্কৃতি এক, পাঠ্যক্রমেও অনেক মিল। তাই আমরা এক সঙ্গে কাজ করতে পারি।

তার মতে, যেকোনো সময় দুনিয়ার যে কোনো জায়গায় সাইবার হামলা হতে পারে আর তাই সাইবার দুনিয়াকে সুরক্ষিত করতে বিশ্বব্যাপী এক সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ১২ কোটি মানুষ আর বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষ নিয়ে সারা বিশ্বে প্রায় ৪০ কোটি বাংলা ভাষাভাষি মানুষ আছেন। আমরা এক সাথে কাজ করতে পারি।

সাইবার সিকিউরিটি ছাড়াও পলক ইন্টারনেট এবং সোস্যাশ মিডিয়াকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নিয়ে নিজের মতামত জানান।

পলক বলেন, আমরা সবাই অনলাইনে আসব, ইন্টারনেটে থাকব তবে বিনোদন সুষ্ঠু হতে হবে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার আমরা কোনোভাবেই করব না। তাই আমরা সবার কাছে অনুরোধ, সামাজিক গণমাধ্যমে কিছু দেখলেই মতামত দেবেন না। জেনে এবং বুঝে মতামত দেবেন। মনে রাখতে হবে যে নিউ মিডিয়া এবং নিউজ মিডিয়া এক নয়।

ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিরাপদ রাখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকার যৌথ প্রয়াস চালাবে বলেও তিনি জানান।

পলকের সুরে সুর মিলিয়ে ব্রাত্য বসু বলেন, ফেক নিউজ আতঙ্কের ক্ষেত্রে সামাজিক গণমাধ্যমগুলোরও দায়িত্ব থেকে যায়। ফেসবুকের সংস্থাগুলির অনেক দায়িত্ব আছে ফেক নিউজ আটকানোর ক্ষেত্রে।

একই ধরনের আরও সংবাদ