অধিকার ও সত্যের পক্ষে

বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি দেখা মেলেনা স্বপ্নের নীড়গুলোর

 রিপন আলি রকি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে সময়ের বিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পী, সম্প্রীতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর গ্রামগঞ্জের থাকা বাবুই পাখি ও তার স্বপ্নের নীড়/বাসা। গ্রাম বাংলায় এখন আর আগের মতো বাবুই পাখি ও তার বাসা চোখে পড়ে না।

প্রকৃতির রুপকথা ও সুন্দর সবুজ ফসলের বুক থেকে কালের বিবর্তনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের জেলা ও উপজেলাগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি ও তার বাসা। বাবুই আবহমান বাংলার শোভন পাখি। তালগাছের পাতায়, নারিকেল গাছের পাতায়, বাবুরের গাছে দল বেধে স্বপ্ন নীড়ে/বাসায় দোল খেত পাখিগু। বেশির ভাগ দেখা যেত গ্রাম্য এলাকায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বেশির ভাগ দেখা মেলে শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা গুলোতে এবং আরও বেশি দেখা যায়  ভোলাহাট, নাচোল, গোমস্তাপুর, রহনপুর এলাকাগুলো। তালগাছ, বাবুর গাছগুলোতেই বাবুই পাখির শিল্পিত বাসা নিসর্গকে মনোরম করে তুলতো। যেমন দৃষ্টিনন্দন তাদের বাসা ঠিক তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড় বৃষ্টি-বাতাসেও টিকে থাকে তাদের বাসা। খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাঁশবনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে মাঠে বাবুর গাছে দেখা যায় খুব চমৎকার আকৃতির বাসা তৈরি করত বাবুই পাখিরা।

একান্নবর্তী পরিবারের মত এক গাছে দলবদ্ধ বাসা বুনে এদের বাস। বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনেরও প্রতিচ্ছবি। শক্ত বুননের এ বাসা টেনেও ছেঁড়া কঠিন। বাবুই পাখির মত দিনে দিনে উজাড় হচ্ছে তালগাছ, বাবুর গাছ। হারিয়ে যাচ্ছে মিষ্টি মধুর কণ্ঠে বাবুই পাখির গান।

একযুগ পূর্বেও গ্রাম-গঞ্জের তাল, নারিকেল, সুপারি, বাবুর গাছে ব্যাপক ভাবে বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়তো। কিন্তু এখন আগের মতো আর গাছপালা নেই তাই চোখে পড়েনা বাবুই পাখির বাসা। এসব বাসা শুধু শিল্পীক নিদর্শনই ছিল না, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক যোগাত এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করত।

বিশ্লেষকদের মনে করেন, বর্তমানে বাবুই পাখি বাসা বাঁধতে পারে এ ধরনের গাছগুলি কেটে ফেলা হচ্ছে, গ্রাম অঞ্চলেও তৈরি হচ্ছে ইট ক্রংকিটের ইমারত। সেই সাথে হারিয়ে  যাচ্ছে বাবুই পাখি। তাই আগের মত তাল, নারিকেল, সুপারি, বাবুর গাছ নেই আর বাবুই পাখিও নেই।

তারা আরো বলেন, এখনি যদি পাখিদের রক্ষনা বেক্ষনার জন্য সরকারকারি ভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তাহলে হয়তো এসব পাখি টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে তারা মনে করেন তারা।

একই ধরনের আরও সংবাদ