অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ফল পুনঃনিরীক্ষণ ফেল থেকে পাস ৭৭৮ জিপিএ ৫ নতুন ৩৮৬ এই দায় কার !

 মোঃ আব্দুল হাই।।

সারা দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে আট শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান ফল পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়েছে। এতে অনেকে শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে বেড়েছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা পাশাপাশি ফেল থেকে পাসের ঘটনা ঘটেছে। ফেল থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও রয়েছে। বোর্ডগুলোর প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছর আটটি শিক্ষা বোর্ডে প্রায় তিন হাজার ২৯১ জন শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করে ৭৭৮ জন এবং নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৮৬ জন।

অন্যদের বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতা দেখায় শিক্ষকদের অনীহা ও অবহেলার কারণে প্রতি বছর খাতা চ্যালেঞ্জ করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার খাতা চ্যালেঞ্জ করার পরিমাণ বাড়ালেও এবার ফল পরিবর্তনের সংখ্যা কমেছে। এ জন্য এবার মডেল পদ্ধতিতে খাতা দেখায় ভুলের পরিমাণ কমে আসছে বলে জানান বোর্ড কর্মকর্তারা।

বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, পুনঃনিরীক্ষণে সাধারণত মোট চারটি দিক দেখা হয়। এগুলো হলো উত্তরপত্রে সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে উঠানো হয়েছে কি না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কি না। এসব বিষয় পরীক্ষা করেই পুনঃনিরীক্ষার ফল দেয়া হয়েছে বলে বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তার মানে কোনো শিক্ষার্থীর খাতা আবার মূল্যায়ন হয় না।

১০টি বোর্ডে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফল যাচাই করে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ফল পরিবর্তন হয়েছে, ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে মোট এক হাজার ৯৫৫ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। যার মধ্যে ফেল করে পাস করেছে ৫৪০ জন এবং নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৬৪ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে ৪০৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১০৮ জন, ফেল থেকে পাস করেছে ৭৩ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে মোট ৩৬২ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ২৪ জন, নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬২ জন। সিলেট বোর্ডে মোট ৫৫ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ১৭ জন, নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৫ জন।

কুমিল্লা বোর্ডে মোট ২৩৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ৬৪ জন ও নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে সাতজন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে দু’জন, তবে ফেল থেকে নতুন করে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। যশোর বোর্ডে মোট ১০৮ জনের জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে পাস করেছে ৪১ জন, নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২১ জন।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে মোট ফল পরিবর্তন হয়েছে ৭২ জন পরীক্ষার্থীর। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ১৯ জন, নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে সাত শিক্ষার্থী।

শিক্ষক অথবা বোর্ড কতৃপক্ষের অবহেলায় শিক্ষার্থীরা ফেল করে আবার অনেকে আত্নহত্যার পথ বেঁচে নেয়। ফল  পুনঃনিরীক্ষণে আবার পাস করে। কে নেবে এই দায়ভার এই প্রশ্ন শিক্ষার্থী সহ সকল অভিভাবকের।

লেখক-  অভিভাবক , উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা।

একই ধরনের আরও সংবাদ