অধিকার ও সত্যের পক্ষে

নিরাপদ হোক ঈদযাত্রা

 এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।।

শেকড়ের টান বড় টান। মানুষ তাই ঘরে ফেরে। ঘরে ফিরতে চায়, ঘরে ফেরার টান অনুভব করে। বিশেষ করে উৎসবে, পার্বণে। সামনে ঈদ। মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। সবাই চায় প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে।  ইতোমধ্যে  রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে । লঞ্চে, ট্রেনে, বাসে থাকছে উপচেপড়া যাত্রীর ভিড়। জীবনের তোয়াক্কা না করে যাত্রীরা ঠাঁই নেয় যানবাহনের ছাদে। বাস-ট্রেনে জায়গা না পেয়ে ট্রাকে চড়ে মানুষ ঢাকা থেকে বিভিন্ন শহরে গমন করছে। যাত্রীর অনুপাতে যানবাহনের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় গতিসীমার বাইরে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে বেশি ট্রিপ দেওয়ার অশুভ প্রতিযোগিতা দেখা যায়। সড়ক-মহাসড়কের ওপর পড়বে যানবাহনের বাড়তি চাপ। আর তাতে দুর্ঘটনার হারও অনেকাংশে বেড়ে যায়।  

 গত বছরে ঈদযাত্রায় ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় কমপক্ষে ৩১১ জন। আহত হয় ৮৬২ জন। কেন এত দুর্ঘটনা? কেন এত প্রাণহানি? বেহাল সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ফিটনেস বিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গাড়ি চালনা, বাড়তি ট্রিপ, চালকদের বিশ্রাম স্বল্পতা- এমনি আরও অনেক বিষয় উঠে আসে আলোচনায়, গবেষণায়।  ‘যত যাই হোক শেষপর্যন্ত চালকের হাতেই সবকিছু। তাই চালকদেরকেই সতর্ক হতে হবে। সচেতন হতে হবে।’

বরাবরের মতো সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর তৎপরতা চোখে পড়লেও কিছুতেই আস্থার জায়গাটি প্রসার পাচ্ছে না যেন। প্রতিটি আঞ্চলিক সড়কের বেহাল দশা, লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ির উপস্থিতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত। চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা মানসিক উন্নয়নের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। উল্টো প্রতিদিন গড়ে ১০ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এই দুর্ঘটনার কারন ফিটনেসবিহীন গাড়ি , অদক্ষ চালক, সড়কের বেহাল অবস্থা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ,ওভারটেকিং ইত্যাদি। এই দুর্ঘটনা রোধে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুততার সঙ্গে টেকসই সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করতে হবে। এলাকাভিত্তিক চালকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। চালকদের মানসিক বিকাশ ও মাদকে নিরুৎসাহী করতে মনোবিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম করে তাদের অধীনে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় না নামাতে মালিকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দোষী চালকদের দ্রুতবিচার আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। হাইওয়ে থানাগুলোকে আরও বেশি তৎপর রাখতে হবে যেন সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হয়। প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা যেতে পারে, ব্যস্ত রাস্তাগুলোয় যাতে চালকদের গতি ও আগে যাওয়ার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

রহস্যময় এই পৃথিবীতে কত কিছুই তো ঘটে। এবার গণমাধ্যমে শিরোনাম হোক: ‘ঈদের ছুটিতে সড়কে একটি প্রাণও ঝরেনি’। আহ্, এমন যদি হতো!

পথে দেরি হলে হোক। যানজট হোক। হোক দুর্ভোগ। তারপরও ঈদযাত্রা নিরাপদ হোক। এই আনন্দ-উৎসবের প্রাক্কালে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে প্রিয়জন হারায় সেই বোঝে হারানোর বেদনা কাকে বলে। কোনো আহাজারি নয়, হারানোর হাহাকার নয়, আনন্দের হোক ঈদযাত্রা। ঈদযাত্রা হোক নিরাপদ এক আনন্দযাত্রা। খুশির ঈদ প্রত্যেকের জন্যই অপার আনন্দের হোক।

লেখক- শিক্ষক , উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ ও সম্পাদক,শিক্ষাবার্তা ডট কম।।

একই ধরনের আরও সংবাদ