অধিকার ও সত্যের পক্ষে

বই আছে, পাঠক নেই ফেনী লাইব্রেরিতে

 জেলা প্রতিনিধি,ফেনী ||

দিন দিন পাঠকশূন্য হয়ে পড়ছে ফেনী জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারটি। একসময় এ লাইব্রেরিতে পাঠকের ভিড় লেগেই থাকতো। কিন্তু নতুন ভবনে স্থানান্তরের পর থেকে দিন দিন এটি পাঠক শূন্য হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রন্থাগারে পাঠক ফিরিয়ে আনতে নতুন নতুন বই ও কার্যকরী জনমুখি কিছু সেবা সংযোজন করা প্রয়োজন।

সূত্র জানায়, ফেনী জেলা গণগ্রন্থাগারটি এক সময় শহরের প্রাণকেন্দ্র ট্রাংক রোডে রাজাঝির দীঘির পশ্চিম পাশে ছিল। পাঁচ বছর আগে এটিকে এসএসকে রোডে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন ওয়াপদা মাঠের উত্তর পাশে নতুন নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়। ৫ হাজার ৬০০ বর্গফুট জুড়ে অবস্থিত এ পাঠাগারে ২৭ হাজার ৫৮৩টি বই আছে। এখানে ৮টি বাংলা ও ২টি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা পাঠকদের জন্য রাখা হয়। এ ছাড়াও সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্রিকা এবং সাময়িকী সংরক্ষণ করা হয়। নিয়ম মোতাবেক কোনো পাঠক চাইলে গ্রন্থাগারের নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করে সদস্য হয়ে বই বাসায় নিয়েও পড়তে পারেন বলে জানান কর্মকর্তারা। বৃহস্পতি ও শুক্রবার পাঠাগার বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্রন্থাগারটি সবার জন্য উন্মুক্ত। পাঠক কম থাকায় অনেকটা দায়সারাভাবেই চলছে ফেনী গণগন্থাগারটির সার্বিক কার্যক্রম।

গ্রন্থাগার সহকারী মো. শামসুদ্দীন জানান, পুরনো গ্রন্থাগারের তুলনায় নতুন ভবনে আয়তন ও বই বেড়েছে। কিন্তু যাতায়াতের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় পাঠক কমেছে। এক সময়ে ফেনী লাইব্রেরিতে ২ থেকে আড়াইশ পাঠক থাকলেও এখন ৫০-৭০ এর বেশি পাঠক হয় না।

তিনি আরও জানান, মানুষের মাঝে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং পাঠক বৃদ্ধির জন্য গ্রন্থাগারের উদ্যোগে নিয়মিত বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রম যেমন বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে রচনা, হাতের সুন্দর লেখা, পাঠ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন করা হয়। কিন্তু তাতেও পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে না।

চেওরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা শাহীন বলেন, গ্রন্থাগারটি রাজাঝির দীঘির পাড়ে থাকাকালীন সপ্তাহে অন্তত তিন-চারবার যাওয়া হতো। কিন্তু এখন বছরেও যাওয়া হয় না। দূরত্ব ও শহরের এক পাশে হওয়ায় এ পাঠাগারে যাওয়া-আসা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ফেনী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার অধ্যাপক তায়েবুল হক বলেন, দিন দিন বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছে। এক সময়ে আচার-অনুষ্ঠানে উপহারের প্রধান উপকরণ ছিল বই। কিন্তু আজকাল পুরস্কার হিসেবে কেউ বই নিতে চায় না। পাঠকরা এখন মোবাইল ও কম্পিউটারে চাহিদা মতো বই ডাউনলোড করছেন। এ কারণে লাইব্রেরিতে যাওয়ার দরকার পড়ে না।

তিনি বলেন, গ্রন্থাগারগুলোয় পাঠক সেবা, রেফারেন্স সেবা, সাম্প্রতিক তথ্য জ্ঞাপন সেবা, পরামর্শ সেবা, নির্বাচিত তথ্য বিতরণ সেবা, তথ্য অনুসন্ধান সেবা, উপদেশমূলক সেবা, পুস্তক লেনদেন সেবা ও ফটোকপি সেবা চালু করা গেলে আবার পাঠক বাড়বে।

একই ধরনের আরও সংবাদ