অধিকার ও সত্যের পক্ষে

‘শিক্ষক বদলি নীতিমালা’ স্থগিত

 অনলাইন ডেস্কঃ
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নীতিমালা সংশোধনে আগ্রহী নয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বদলির জন্য তদবিরের হিড়িক পড়ায় নীতিমালা সংশোধনের কাজ স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, নীতিমালা জারি হওয়ার আগেই মেট্রোপলিটন ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বদলির আবেদনের হিড়িক পড়ে। পদ শূন্য না থাকলেও বিভিন্ন মহল থেকে বদলির তদবির শুরু হয়। ফলে বিপাকে পড়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ কারণে মন্ত্রীর পরামর্শে বদলির কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক বদলির বিষয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে পঞ্চমবারের মতো বদলি নীতিমালা যুগোপযোগী করতে খসড়া নীতিমালায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক বদলিতে তদবিরের হিড়িক পড়ে। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়।

প্রণীত খসড়ার ৩-এর ৯ ধারায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকের শিক্ষিকারা স্বামীর কর্মস্থল এলাকা বা এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বদলি (পদশূন্য থাকা সাপেক্ষে) হতে পারবেন। আগে স্বামীর নিজ জেলায় শিক্ষিকারা বদলি হতে পারলেও স্বামীর কর্মস্থল এলাকায় বদলিতে অনেক জটিলতা পোহাতে হতো, যা ছিল অনেকটা দুঃসাধ্য। নীতিমালা পরিবর্তন হলে মানবিক কারণসহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সারা বছর বদলির আবেদন করা যাবে। ফলে স্বামীর সঙ্গেই থাকতে পারবেন প্রাথমিকের শিক্ষিকারা।

খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়, চাকরি পাওয়ার পর নারী শিক্ষকদের বিয়ে হলে স্বামীর কর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী স্কুলে বদলি হতে পারবেন। প্রতিবন্ধী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানার পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুলে বদলি করা যাবে। স্বামী মারা গেলে বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সুবিধামতো স্থানসহ বিশেষ কোনো কারণে বছরের যে কোনো সময় বদলি হওয়া যাবে। দুর্গম এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চাকরির মেয়াদ ১০ বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর পর নিজ এলাকায় বদলি হতে পারবেন। এছাড়া জাতীয়করণ হওয়া অনেক শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তারা প্রেষণে নিজ জেলায় বদলি হতে পারবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে নারী শিক্ষকরা নানা সমস্যায় পড়েন। এতে সেখানে তার অবস্থান অসম্ভব হয়ে পড়ে। নানা ধরনের মানবিক কারণে শিক্ষকদের সুবিধামতো স্থানে বদলিতে আমরা নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু দেখা গেছে, ভালো স্থানে বদলি হতে সবাই নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এ কারণে ২০১৭ সাল থেকে মেট্রোপলিটন ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বদলি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ নীতিমালা সংশোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

একই ধরনের আরও সংবাদ