অধিকার ও সত্যের পক্ষে

গফরগাঁও ইসলামিয়া  হাই স্কুলের ১১৩তম প্রতিষ্ঠা  বাষিকী আজ 

 মোঃ নূরুজ্জামানঃ

শিক্ষা ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্যের অধিকারী ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উপকণ্ঠে স্থাপিত শত বছরের ঐতিহ্যময় বিদ্যাপীঠ গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল। প্রতিষ্ঠানটি ১১২ বছর পেরিয়েও আজও সুনাম, মর্যাদা, গৌরব ধরে রেখেছে। শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সব সময় এগিয়ে চলছে সমান গতিতে। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে জানা যায়, সালটিয়া ইউনিয়নের শিলাসী গ্রামের বিদ্যাব্রতী মরহুম মৌলভী নাসির উদ্দিন খান ও যশরা ইউনিয়নের ভারইল গ্রামের মৌলভী ছাবেদুল্লাহর ঐকান্তিক চেষ্টায় ১৯০৬ সালে গফরগাঁও ইসলামিয়া ইংরেজি বিদ্যালয় নামে মুসলিম জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়। রাঘাইচটি গ্রামের আহম্মদ আলী ও আবেদ আলী এবং কাজা গ্রামের আব্দুর রহমান এই তিন ছাত্র নিয়ে ছাবেদুল্লাহ সাহেব বিদ্যালয়টি শুরু করেন।

পরে সুপণ্ডিত বশরতখান বাবু কামিনী কান্ত সোম শিক্ষক হিসেবে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তখন এই বিদ্যালয়টির পাশেই ছিল মৌলভী হালিম উদ্দিন সাহেবের পরিচালনায় আরবি শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান । তিনিও পরে আরবি শিক্ষার্থীসহ যুক্ত হলেন বিদ্যালয়টির সঙ্গে। গফরগাঁওয়ে ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় নামকরণের বিষয়টি সে সময়ের জমিদার সমাজ ভালো চোখে দেখেনি। ইংরেজি শব্দটি স্কুলের নামকরণের পাশে থাকায় আলেম সমাজ ধর্মের দোহাই দিয়ে পরাক্রান্ত জমিদার সমাজ এতে প্রবল বাধা প্রদান করে। ঠিক ওই সময়েই ভারতে আলীগড় মুসলিম বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মুসলিম আন্দোলনের সপক্ষে ওই এলাকার বৃহত্তর স্বার্থের জন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকাটা যথার্থ ছিল। যে কারণে মুসলিম জাতীয় নেতা নবাব সলিমুল্লাহ, খান বাহাদুর ইসমাইল হোসেন, মুন্সী ইব্রাহিম খান, মো. আবদুল খালেকের মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিরা বিভাগীয় পরিদর্শক সাহেবের কাছে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জোর সুপারিশ করেন। তৎসময়ের ময়মনসিংহ জেলা সহকারী প্রশাসক মিস্টার সেক্সি ১৯০৮ সালে মৌলভী হালিম উদ্দিন সাহেবের আরবি মক্তবটিকে একত্রিত করে গফরগাঁও ইসলামিয়া হাই স্কুল নামে একটি রিপোর্ট সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠান।

যার ভিত্তিতে ইংরেজি ১৯১০ সালে গফরগাঁও ইসলামিয়া হাই স্কুলটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে। সময়ের পরিক্রমায় আট দশক পর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয় ১৯৮৫ সালের ১ জুন। বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাউল চন্দ্র বসাক। স্কুলটি জন্মলগ্ন হতেই লেখাপড়া, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করে আসছে।

১৯৯৯ সালে কাবাডিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন, ২০০১ সালে ইন্টার স্কুল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, ২০০৫ সালে বাংলালিংক আয়োজিত স্কুল প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা স্টেডিয়ামে রানার্সআপসহ ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবছর সাফল্যের পুরস্কার আনছে।

একই ধরনের আরও সংবাদ