অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ইউজিসি স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নোবিপ্রবি’র শিক্ষক ড. শফিকুল

 নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
মানসিক ব্যাধি  নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রদত্ত স্বর্ণপদকের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের কাছ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি (স্বর্ণপদক) গ্রহণ করবেন।

 

প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দেশের সেরা গবেষণাকারী ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশককে এ স্বর্ণপদক প্রদান করে।  ২০১৬ ও ২০১৭ সালের দেশের মোট ৩৪ জন গবেষক তাদের মৌলিক গবেষণার জন্য ইউজিসির পুরষ্কারের জন্য  মনোনয়ন পান।

ড. শফিকুলের গবেষণার বিষয়বস্তু হলো “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” নামক এক ধরণের মানসিক ব্যাধি। এটা এক প্রকারের মানসিক সমস্যা যা আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বকে বাঁধাগ্রস্থ করে।

ড. শফিকুল ইসলাম জানান, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর তথ্যমতে বাইপোলার ডিজঅর্ডার হলো বিশ্বের ষষ্ঠ চিহ্নিত মানসিক ব্যাধি যা দিনদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এই গবেষণার জন্য আমরা ঢাকাস্থ ন্যাশনাল ইন্সটিটউট অব মেন্টাল হেলথ থেকে ৫৫ জন মানসিক রোগি এবং ৫৫ জন সুস্থ মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করি। এক্ষেত্রে তাদের বয়স ও লিঙ্গ (পুরুষ বা মহিলা) প্রাধান্য দেয়া হয়। সম্পূর্ণ গবেষণা চলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ল্যাবে।

এ সময় দেখা যায়, “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” শুধু জেনেটিক বা মস্তিষ্কের আকার পরিবর্তনের জন্য হয়না। বিভিন্ন ননএনজাইমেটিক এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন: ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ও ভিটামিন-ই ছাড়াও কিছু ট্রেস উপাদান যেমন: জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও সেলেনিয়াম এর উপর নির্ভর করে। গবেষণায় ধরা পড়ে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ট্রেস উপাদানগুলোর অভাব উপরিউক্ত মানসিক রোগের ঝুঁকি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। লিপিড পারঅক্সিডেশন প্রোডাকশনাল মেলোনডিএলডিহাইড এর মাত্রা বেড়ে গেলেও রোগটি মানবদেহে বাসা বাঁধে প্রকটরুপে।

ড. শফিকুল ইসলাম বলেন , অনেকে এমন  মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগে। তবে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে এর মাত্রা দিনদিন বাড়ে এবং একটা সময় মারাত্বক আকার ধারণ করে যা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পরিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ।  এবারই প্রথমবার বাংলাদেশে “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” নিয়ে গবেষণা হলো। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৮.৯৫ ভাগ লোক “বাইপোলার ডিজঅর্ডারর” রোগে আক্রান্ত হয়।

একই ধরনের আরও সংবাদ