অধিকার ও সত্যের পথে

অভিনেত্রী নওশাবা আবার রিমান্ডে

 শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ
অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার নওশাবাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, নওশাবা’র বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় গত ৫ আগস্ট র‌্যাব-১ এর ডিএপি আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ সালের ৫৭(২) ধারায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় বর্তমানে তিনি আটক রয়েছেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার থানার উপ-পরিদর্শক বিকাশ কুমার পাল।
মামলার এজহার থেকে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট কাজী নওশাবা নিজের ফেসবুক থেকে অত্যন্ত আবেগী কণ্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে বলেন যে, ‘আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই। একটু আগে ঝিগাতলায় আমাদেরই ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসাথে হোন প্লিজ। ওদেরকে প্রোটেকশন দেন, বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে, প্লিজ। আপনারা রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন এবং ওদেরকে প্রোটেকশন দেন।’
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রোটেকশন দিতে না পারলে আপনারা মা-বাবা, ভাই-বোন হয়ে বাচ্চাগুলোকে প্রোটেকশন দেন, এটা আমার রিক্যুয়েস্ট। এ দেশের মানুষ-নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিক্যুয়েস্ট করছি যে, ঝিগাতলায় একটি স্কুলে একটি ছাত্রের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে এবং ওদের অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ ওদের বাঁচান প্লিজ। তারা ঝিগাতলায় আছে।
তার এ আহ্বান মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা তার এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডার উৎস জানতে ফোন করলে তিনি তার স্বপক্ষে সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেন নি। ওই সময় জিগাতলায় এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি।
আদালত সূত্র জানায়, এই মামলায় তাকে গ্রেফতারপূর্বক গত ৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হকের আদালতে হাজির করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার থানার উপ-পরিদর্শক বিকাশ কুমার পাল। অপরদিকে, তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার রিমান্ডের সেই চারদিন শেষ হলে তাকে আবার আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালত আবার তাকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
একই ধরনের আরও সংবাদ